মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সামরিক সংঘাত এখন ইউরোপীয় শক্তিগুলোকেও সরাসরি জড়িয়ে ফেলছে। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অভিযানের প্রেক্ষাপটে এবার ভূমধ্যসাগরে নিজেদের পরমাণু শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্স।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভাষণে জানান, ফ্রান্সের একমাত্র বিমানবাহী রণতরী চার্লস দ্য গলকে ভূমধ্যসাগরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে জাহাজটি বাল্টিক সাগর ছেড়ে নতুন মিশনের পথে রয়েছে।
ম্যাক্রোঁ বলেন, সাইপ্রাসে অবস্থিত একটি ব্রিটিশ সামরিক স্থাপনায় ইরান থেকে নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আঘাত হেনেছে। সাইপ্রাস যেহেতু ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্র, তাই ইইউ সনদের আলোকে সদস্য দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ফ্রান্সের দায়িত্বের অংশ।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত ইউরোপের পক্ষ থেকে সংঘাতে প্রথম সরাসরি সামরিক সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আরও পড়ুন
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরানে ‘বড় ধরনের সামরিক অভিযান’ শুরু হয়েছে। একই দিনে তেহরানসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায় ইসরায়েল। পাল্টা জবাবে ইরান কাতার, কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে।
ওয়াশিংটনের দাবি, অভিযানের লক্ষ্য ইরানের ক্ষমতাসীন শাসনব্যবস্থার পতন। তবে তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে- মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সব স্বার্থ এখন তাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তু।
ভূমধ্যসাগরে ফরাসি রণতরীর উপস্থিতি শুধু প্রতিরক্ষা নয়, বরং কূটনৈতিক বার্তাও বহন করছে। এটি একদিকে সাইপ্রাস ও ইইউর প্রতি সংহতির প্রকাশ, অন্যদিকে ইরানকে সতর্কবার্তা- সংঘাত ইউরোপের নিরাপত্তা সীমারেখায় পৌঁছে গেলে তা নীরব থাকবে না।
এএডি/