বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) নারী শিক্ষার্থীদের আপত্তিকর ছবি তুলে ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোনে সংরক্ষণের অভিযোগ উঠেছে তুর্য বাড়ৈ নামে এক ছাত্রের বিরুদ্ধে। তার ল্যাপটপ ও ফোনে ছাত্রীদের প্রায় এক হাজারের বেশি ব্যক্তিগত ও আপত্তিকর ছবি পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।
অভিযুক্ত তুর্য বাড়ৈ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের এক ছাত্রীর ছবি তোলার সময় তূর্য হাতেনাতে ধরা পড়েন। পরবর্তীতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তার ফোন ও ল্যাপটপ তল্লাশি করলে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।
সেখানে দেখা যায়, গত চার বছর ধরে ল্যাবে প্রাকটিক্যাল ক্লাসসহ বিভিন্ন সময়ে নারী শিক্ষার্থীদের পোশাকের অসতর্ক মুহূর্তের ছবি তুলে আসছিলেন তূর্য। এসব ছবি অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে পেনড্রাইভ ও ইমেইল ব্যাকআপে ফোল্ডার আকারে সাজিয়ে রাখা হয়েছিল।
এদিকে, এসব ঘটনায় বুধবার (৪ মার্চ) সকালে অভিযুক্ত তুর্য বাড়ৈর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রক্টর অফিসের সামনে মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থীরা।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে নিরাপদ আশ্রয় হওয়ার কথা, সেখানে সহপাঠীর এমন বিকৃত মানসিকতা আমাদের আতঙ্কিত করে তুলেছে। অভিযুক্ত এই বিপুল পরিমাণ ছবি কোনো পর্নোগ্রাফি সাইটে বা ব্ল্যাকমেইলের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর রাহাত হোসেন ফয়সাল বলেন, আমরা তার ডিভাইসে বেশ কয়েকজন ছাত্রীর আপত্তিকর ছবি পেয়েছি। এগুলো বেশ সংবেদনশীল। এখন, বিশ্ববিদ্যালয় আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে। যেহেতু সে এই ছবিগুলো তুলেছে, তাই আমাদের তদন্ত করতে হবে যে, সে এসব ছবি কোথায় শেয়ার করেছে বা পাঠিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এটি একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। এই কারণে, পুলিশ বিষয়টির তদন্ত করবে। উপরন্তু, তার সমস্ত অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম এবং নিয়মিত ছাত্রদের সুযোগ-সুবিধা স্থগিত করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. তৌফিক আলম বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। প্রক্টরিয়াল বডি তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
তিনি আরও বরেন, আমাদের পর্যাপ্ত সাইবার ইনস্ট্রুমেন্ট নেই এবং ছবিগুলো ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে, তাই আমরা বিষয়টি অভিজ্ঞ কোনো আইনি সংস্থাকে (থানা বা ডিবি) হস্তান্তরের চিন্তাভাবনা করছি।
এফআর