সেমিফাইনাল মানে স্নায়ুচাপ, সূক্ষ্ম হিসাব আর ছোট ছোট সিদ্ধান্তের বড় প্রভাব। আজ মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়েতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে খেলতে নামছে দুই হেভিওয়েট ইংল্যান্ড ও ভারত। স্বাগতিক ভারত টুর্নামেন্ট শুরুর আগে থেকেই ফেবারিটের তকমা নিয়ে খেলছে, কিন্তু সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে তাদের ক্রিকেটে দেখা গেছে বেশ হিসেবি ও সতর্ক থাকতে।
সুপার এইটের শেষ ম্যাচে উইন্ডিজ ব্যাটার শাই হোপের বিপক্ষে রক্ষণাত্মক ফিল্ডিং সেটআপ, আবার বিগ হিটারদের জন্য মূল বোলারদের শেষের দিকে তুলে রাখা- সব মিলিয়ে স্পষ্ট, ভারত এখন ঝুঁকি নয়, নিয়ন্ত্রণের ক্রিকেট খেলছে। ইংল্যান্ড যদি এই দলকে হারাতে চায়, তা হলে নিখুঁত কৌশল ছাড়া উপায় নেই।
এই ম্যাচের আগে ইংলিশ পেসার জফরা আর্চার ও ভারতের ব্যাটার সাঞ্জু স্যামসনের দ্বৈরথ নিয়েই সবচেয়ে বেশি আলোচনা। ভারতের মাটিতে আগের সিরিজে ২৩ বলে ২৫ রানে তিনবার স্যামসনকে আউট করেছিলেন আর্চার। তবে একই সফরে অভিষেক শর্মা ৩৩ বলে ৬১ ও তিলক ভার্মা ১৬ বলে ৩৬ রান করে তাকে চাপে ফেলেছিলেন, দুজনের কেউই আউট হননি।
গতবার বাঁহাতিদের বিপক্ষে ইংলিশ পেসার আর্চার প্রায় পুরোটা সময় রাউন্ড দ্য উইকেট থেকে লেগ সাইড ফিল্ডে বল করেছিলেন। কিন্তু অভিষেক ও তিলক জায়গা বানিয়ে পয়েন্ট ও কভারের ওপর দিয়ে দারুণ শট খেলেছেন। এবার আর্চার ওভার দ্য উইকেট থেকে বল বাইরে সরিয়ে দিতে পারেন, এমনকি ডিপ স্কয়ার থার্ড ও ডিপ কভার পয়েন্ট ফিল্ডও দেখা যেতে পারে।
এই বিশ্বকাপে স্যামসনকে দেখা গেছে উইকেটের পেছনে সরে পেস ব্যবহার করে রান তুলতে স্বচ্ছন্দবোধ করতে। হার্ড লেংথে তিনি একই কৌশল নেবেন, যদিও ভেতরে ঢোকা ডেলিভারি তাকে বিপদে ফেলতে পারে। মিডল ওভারে ইংল্যান্ডের প্রধান অস্ত্র আদিল রশিদ। এই বিশ্বকাপে বাঁহাতিদের বিপক্ষে তার পরিসংখ্যান ভালো, যদিও শ্রীলঙ্কার উইকেট তাকে সহায়তা করেছে। ভারতে তার ইকোনমি প্রায় ওভারপ্রতি ৯ রান। তবে ওয়াংখেড়েতে এক ম্যাচে ৪-০-১৬-২ নিয়েছিলেন তিনি। ভারতের ব্যাটাররা তুলনামূলক কম সুইপ খেলে, যা রশিদের জন্য ইতিবাচক দিক।
জস বাটলার ফর্মে না থাকায় ভারতের বড় ভরসা অর্শদীপ সিং। ফিল সল্টকে তিনি ৪৪ বলে ৫০ রান দিয়ে চারবার আউট করেছেন। শর্ট বলেই চারবার আউট হয়েছেন সল্ট, তবে ছোট মাঠে এই কৌশল ঝুঁকিপূর্ণ। তাই ভারত চাইবে না পাওয়ারপ্লেতে বরুণ চক্রবর্তীর ওপর চাপ বাড়াতে। হ্যারি ব্রুক অক্ষর প্যাটেল ও বরুণ- দুজনের বিপক্ষেই রান তুলেছেন, যদিও বরুণ তাকে ৩০ বলে তিনবার আউট করেছেন।
বাটলার দ্রুত আউট না হলে জসপ্রিত বুমরাহকে আগেভাগে দেখা যেতে পারে। তবে বুমরাহর বিপক্ষে বাটলারের পরিসংখ্যান সুখকর নয়- ৮৮ বলে ৭৯ রান করার বিপরীতে আউট হয়েছে চারবার। সব মিলিয়ে এই সেমিফাইনাল শুধু তারকাদের লড়াই নয়, কৌশল আর মানসিক দৃঢ়তার পরীক্ষা। যে দল মুহূর্তের সিদ্ধান্তে এগিয়ে থাকবে, তারাই জায়গা করে নেবে ফাইনালে।
সময়ের আলো/আআ