বেতন-ভাতা, ছুটি-বদলি, পেনশন ছাড়সহ নানা সমস্যা নিয়ে ঢাকায় শিক্ষাভবনে ধরনা দেন শিক্ষকরা। দিনের পর দিন ঘুরেও সমস্যার সমাধান হয় না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ঘুস দিতে বাধ্য হন কয়েক লাখ শিক্ষক-কর্মচারীরা। শিক্ষাভবন ঘিরে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটের কাছে অসহায় তারা। দীর্ঘদিনে গড়ে ওঠা এ সিন্ডিকেট পুরোপুরি ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা তিনি এসব কথা বলেন। অধিদফতরের সভাকক্ষে এ সভা হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী এহছানুল হক মিলন।
এ সময় মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা শিক্ষকদের যেন অপ্রয়োজনীয়ভাবে দীর্ঘ সময় শিক্ষাভবনে ঘোরাফেরা করতে না হয়। তাদের বেতন-ভাতা, পেনশন, ছুটি, বদলি, প্রশিক্ষণ ও উচ্চশিক্ষা-সংক্রান্ত বিষয়গুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে হবে। কোনো সিন্ডিকেট থাকবে না, সব ভেঙে দেওয়া হবে। এক পয়সার ঘুষও চলবে না।’
বদলিতে তদবির বন্ধের নির্দেশ দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বদলির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এআই ভিত্তিক সফটওয়্যারের মাধ্যমে বদলি কার্যক্রম চালুর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। সেবা দেওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও আধুনিক করতে অটোমেশন এবং ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা যেতে পারে, যাতে সেবাপ্রার্থীরা সহজেই তাদের সমস্যার ধরন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ডেস্ক বা কর্মকর্তার তথ্য জানতে পারেন। একইসঙ্গে অনলাইন সেবার পরিধি সম্প্রসারণ করতে হবে।’
কর্মকর্তাদের নির্ভয়ে ও যুক্তির ভিত্তিতে মতামত দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘সরকারি কাজে সুষ্ঠু সমন্বয়, খোলামেলা আলোচনা ও পারস্পরিক সহযোগিতায় কর্মপরিবেশ আরও কার্যকর করতে হবে। প্রশাসনের অভ্যন্তরে অপ্রয়োজনীয় দূরত্ব কমিয়ে সহযোগিতামূলক কর্মপরিবেশ গড়ে তুলতে হবে, যাতে শিক্ষাখাতে সেবার গতি ও মান বৃদ্ধি পায়।’
একই দিন তিনি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন। সভায় এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের দেশের শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অধিদফতরকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সাংগঠনিক কাঠামো ও জনবল বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে।’
নির্মাণকাজের গুণগত মান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘অনেক সময় দেখা যায়, নতুন নির্মিত ভবন কয়েক বছরের মধ্যেই জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে। তাই নির্মাণ কাজের ক্ষেত্রে ঠিকাদারদের দক্ষতা, জনবল এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার সক্ষমতা যাচাই করে দায়িত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি কাজের মান নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নীতিমালা ও কার্যকর তদারকি ব্যবস্থা করতে হবে।’
প্রকৌশলীদের উদ্ভাবনী চিন্তা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সময়ে নির্মাণের ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তি ও নকশার ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন প্রজন্মের প্রকৌশলীদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে, যাতে নির্মাণকাজ টেকসই, সুন্দর ও ব্যয়সাশ্রয়ী হয়।’
সময়ের আলো/এনএ