অজ্ঞাত কারণে দীর্ঘ ছয় মাস ঝুলে থাকার পর অবশেষে কাটতে যাচ্ছে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের জট। দেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্নের ও যানজটমুক্ত চলাচলের এই মেগা প্রকল্পটির দ্বিতীয় সংশোধনী প্রস্তাব উঠতে যাচ্ছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বুধবারের (২২ জুলাই) বৈঠকে।
আগামীকাল বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠেয় এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান। এই এক্সপ্রেসওয়েসহ মোট ৯টি বড় প্রকল্প একনেকে উপস্থাপনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছে পরিকল্পনা বিভাগ।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এবারের সংশোধনীতে প্রকল্পটির সঙ্গে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তিনটি নতুন অঙ্গ যুক্ত হচ্ছে। এগুলো হলো- বাইপাইল ইন্টারসেকশন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল এবং নির্মাণাধীন পাতাল মেট্রোরেলের (এমআরটি লাইন-১) সঙ্গে সরাসরি সংযোগ। নতুন এই সংযোজনগুলোর ফলে প্রকল্পটির ব্যয় মূল বরাদ্দের চেয়ে প্রায় ৫৫ দশমিক ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের মূল ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৬ হাজার ৯০১ কোটি ৩২ লাখ টাকা, যার মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৫ হাজার ৯৫১ কোটি ৪১ লাখ এবং চীনের ঋণ থেকে ১০ হাজার ৯৪৯ কোটি ৯০ লাখ টাকা জোগাড়ের কথা ছিল। পরবর্তী সময়ে প্রথম সংশোধনীতে ব্যয় বাড়িয়ে ১৭ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা করা হয়।
তবে এবার দ্বিতীয় সংশোধনীতে আরও ৯ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে, যার ফলে প্রকল্পের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ২৬ হাজার ৫৮১ কোটি টাকায়। বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের ঊর্ধ্বগতি, ভ্যাট-আয়কর ও কাস্টমস শুল্ক বৃদ্ধি, ইউটিলিটি স্থানান্তর, ভূমি অধিগ্রহণ এবং পরামর্শক সেবার খরচ বেড়ে যাওয়ায় এই ব্যয় সংশোধন করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা।
ব্যয়ের পাশাপাশি বাড়ছে প্রকল্পের সময়সীমাও। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদে শুরু হওয়া এই প্রকল্পটির বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষরের ৫ বছর পর ঋণ চুক্তি সম্পন্ন হওয়ায় এর আগে মেয়াদ ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল।
বর্তমান বাস্তবতায় প্রকল্পটির কাজ পুরোপুরি শেষ করতে আরও চার বছর সময় চেয়ে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পটিতে মোট ১১ হাজার ৭৩৫ কোটি ১৭ লাখ টাকা খরচ হয়েছে, যার আর্থিক অগ্রগতি ৬৬ দশমিক ৮৬ শতাংশ এবং ভৌত কাজের অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৫২ শতাংশে।
এদিকে বুধবারের একনেক বৈঠকে ঢাকা-আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ে ছাড়াও আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প অনুমোদনের টেবিলে উঠছে। এর মধ্যে রয়েছে- মেঘনা নদীর ভাঙন হতে ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলাধীন শিবপুর, ধনিয়া ও মেদুনা এলাকা রক্ষা প্রকল্প; বৃহত্তর দিনাজপুর (দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়) জেলার সমন্বিত উন্নয়ন, পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মসংস্থান প্রকল্প এবং সর্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন-২ প্রকল্প।
এছাড়াও দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ-সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্প, বেগমগঞ্জ-৫ কূপ খনন এবং বেগমগঞ্জ-৬ ও সুনেত্র-২ অনুসন্ধান কূপ খনন প্রকল্প, সিলেট বিভাগে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্প এবং দেশের মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোয় বিদ্যমান কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণসহ জেলা সদর হাসপাতালগুলোতে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন সংক্রান্ত স্বাস্থ্য খাতের একটি বিশেষ প্রকল্পও চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য এই বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি