ঈদের ছুটির বাকি আর মাত্র কয়েকদিন। এরপরই লাখো মানুষ ছুটবেন নাড়ির টানে বাড়ির পথে। তবে এবারও সাভারের নবীনগর-চন্দ্র মহাসড়কের আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ চলমান থাকায় উত্তরাঞ্চলের যাত্রীদের ভোগান্তি শঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অবাধে দাপিয়ে বেড়ানো অটোরিকশা হতে পারে দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের মানুষের ঈদ যাত্রার বড় বাধা।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাইপাইল-আব্দুল্লাহপুর ও নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কে চলছে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ। মূল সড়কের উপরে যত্রতত্র নির্মাণ মালামাল, নির্মাণ সরঞ্জাম রাখা হয়েছে। কোথাও কোথাও খোঁড়া হয়েছে বিশাল গর্ত, কোথাও আবার সরু হয়ে গেছে মহাসড়ক।
ঢাকা থেকে উত্তরাঞ্চলের ১৭টি জেলার মানুষের ঈদে বাড়ি ফেরার অন্যতম পথ নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক। প্রতিবছর ঈদযাত্রায় এ সড়কে থাকে যানবাহনের জটলা। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ থাকে প্রতিনিয়ত। সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট। যার ফলে এ পথে যাত্রীদের মিনিটের পথ পাড়ি দিতে হয় ঘণ্টায়। তবে জটলা স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় বাড়তি উদ্যোগ। যদিও সে উদ্যোগেও তেমন স্বস্তি মেলে না।
সোনালি পরিবহনের যাত্রী শহীদুল্লাহ, এসেছেন আব্দুল্লাহপুর থেকে। তিনি বলেন, বাইপাইল পর্যন্ত আসতে সময় লাগার কথা সর্বোচ্চ ৪০ মিনিট। কিন্তু এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজের কারণে সময় লাগলো দুই ঘণ্টা। ঈদে এই দুর্ভোগ আরও কয়েকগুণ বাড়তে পারে।
উত্তরবঙ্গের মিম পরিবহনের চালক জসিম জানান, চলমান উন্নয়ন কাজের কারণে মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্ট সরু হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও পিলার স্থাপনের জন্য বিশাল গর্ত খুঁড়ে রাখা হয়েছে। ঈদের ছুটির আগে এসব বিষয়ে সমাধান না করা গেলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হবে।
এদিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে গাবতলী থেকে ধামরাই পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে অবৈধ থ্রি হুইলারের স্ট্যান্ড। যে কারণে মহাসড়ক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এসব নিষিদ্ধ যান। এর ফলে ঈদের সড়কে গাড়ির বাড়তি চাপে দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের ঘর মুখ মানুষদের ভোগান্তি বাড়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন পরিবহন চালকরা।
ঢাকা-রাজবাড়ি রুটে চলাচল রত রাবেয়া পরিবহনের চালক সুমন বলেন, গাবতলী থেকে নবীনগর পর্যন্ত অন্তত বিশ জায়গায় অটোরিকশার স্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে। এসব অটোরিকশা কোনো ধরনের নিয়ম-কানুন না মেনে মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এতে করে প্রতিনিয়ত ঘটছে নানা ধরনের দুর্ঘটনা। ঈদে যখন মহাসড়কে গাড়ির চাপ বাড়বে তখন এদের নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে সড়কে যানজট সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি ঘটতে পারে দুর্ঘটনা।
এ বিষয়ে সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ শাহজাহান বলেন, ঈদযাত্রার জন্য সব সময় বাড়তি প্রস্তুতি থাকে। এবারও রয়েছে। ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের বিষয়টিও মাথায় রয়েছে। সড়ক-মহাসড়কের নানা প্রতিবন্ধকতার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ঈদে হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি সড়কে শৃঙ্খলার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন জেলা পুলিশের সদস্যরাও। আশা করি সুন্দর সমাধান পাওয়া যাবে।
সময়ের আলো/আআ