অমর একুশে গ্রন্থমেলার শুরুটায় ছিল ধীরগতি। তুলনামূলক কম ছিল পাঠক-দর্শনার্থী। তবে নবম দিনে এসে সেই চিত্রে বদল এসেছে। শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন সকাল থেকেই মেলায় সরব বইপ্রেমীরা। এতে ফিরেছে প্রাণ। বিশেষ করে শিশুপ্রহর ভরে উঠেছে শিশু-কিশোরদের পদচারণে। গতকাল নতুন বই এসেছে ১৯৯টি। ছুটির দিন বেলা ১১টায় খোলে মেলার গেট। শিশুপ্রহর চলে দুপুর ১টা পর্যন্ত।
ছোট্ট পাঠকদের আগ্রহ দেখা গেছে পাপেট শোতে। মঞ্চের সামনে পাটি বিছিয়ে বসে সারি বেঁধে অপেক্ষায় তারা, কখন শুরু হবে প্রিয় পুতুলের গল্প। মায়ের হাত ধরে বই দেখার পাশাপাশি পাপেটেও আগ্রহ খুব। রঙিন শিল্পকর্মের প্রদর্শনী, পুতুল নাচ, হ্যান্ড পাপেট আর বায়োস্কোপ খুবই টানতে দেখা গেছে ছোট্ট পাঠকদের।
আয়োজকরা জানান, প্রতিদিনই বিনামূল্যে কয়েক দফায় পাপেট শো, পুতুল নাচ ও গল্পপাঠের আসর বসছে। পাশাপাশি সামান্য অর্থের বিনিময়ে শিশুদের জন্য রয়েছে বায়োস্কোপ দেখা ও পুতুল তৈরির কর্মশালা।
এদিকে শুক্রবার বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে দেখা গেছে ক্রেতা। ইফতারকালে মেলায় কিছুটা ঝিমুনিভাব থাকলেও ইফতার শেষে আবার প্রাণ ফেরে। ছোট্ট দর্শনার্থী আরাফাত রহমান মায়ের হাত ধরে পাপেটে ব্যস্ত। সে সময়ের আলোকে বলে, ‘আগে শুধু টিভিতে পুতুল নাচ দেখেছি। এখানে সামনে দেখে খুব মজা পাচ্ছি। পুতুলগুলো যখন কথা বলে আর নড়াচড়া করে, তখন মনে হয় আরে তারা তো জীবিত!’ সে আরও জানায়, গল্পের বই আর কমিকস দেখতে বেশ ভালো লাগে।
মাওলা ব্রাদার্সের বিক্রয়কর্মী তুষার আহমেদ বলেন, অন্যান্য দিনের তুলনায় শুক্রবার পাঠক-দর্শক বেশি। কেনাবেচাও মোটামুটি হচ্ছে। শনিবার ছুটিতেও উপস্থিতি থাকবে বলে আশা করছি।
আরও পড়ুন
তাকধুম প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী রাকিব হাসান বলেন, শুক্রবার কেনাবেচা ভালো। শনিবার সর্বোচ্চ বিক্রি আশা করি। আগামী সপ্তাহে ঈদের আমেজ লেগে যাবে এবং মেলাও শেষ হয়ে যাবে।
শিশু-কিশোর আবৃত্তি প্রতিযোগিতা : শুক্রবার সকাল ১০টায় বাংলা একাডেমির সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ সভাগৃহে অমর একুশে শিশু-কিশোর আবৃত্তি প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত অনুষ্ঠিত পর্ব হয়।