তারহীন ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক এখন দৈনন্দিন জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দিন দিন এর প্রয়োজনীয়তা এবং ব্যবহার পরিধিও সমান তালে বেড়ে চলেছে। ওয়াইফাই থাকায় তার ছাড়াই ইন্টারনেট ব্যবহার করা যাচ্ছে। তবে সবচেয়ে বিরক্তিকর দিক হচ্ছে এর ধীরগতি। ওয়াইফাইয়ের ধীরগতি বাজে অভিজ্ঞতা এবং কাজের আগ্রহ কমিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। তবে ধীরগতি সম্পর্কিত সমস্যাগুলো সবসময় বের করা সহজ হয় না।
অনেক ব্যবহারকারী সরাসরি ইন্টারনেট প্রোভাইডারের দিকে দোষারোপ করেন। তবে সমস্যার মূল সূত্র প্রায়ই বাড়িতেই থাকে। শেয়ার করা ব্যান্ডউইডথ, পুরোনো ফার্মওয়্যার বা ব্যস্ত চ্যানেল ব্যবহার নেটওয়ার্ককে ধীর করতে পারে। ছোট কিছু পরিবর্তনে দ্রুত ও স্থিতিশীল নেটওয়ার্ক অভিজ্ঞতা পাওয়া সম্ভব।
ওয়্যারলেস চ্যানেল পরিবর্তন করুন
রাউটার বিভিন্ন ওয়্যারলেস চ্যানেলে কাজ করে। অনেক ডিভাইস অটোম্যাটিক চ্যানেল সিলেকশন ব্যবহার করে। আবাসিক এলাকায় পাশের নেটওয়ার্ক একই চ্যানেল ব্যবহার করলে সংযোগ ধীর হয়। রাউটারের সেটিংসে লগইন করে চ্যানেল চেক করুন এবং কম ব্যস্ত চ্যানেলে পরিবর্তন করুন।
চ্যানেলের প্রস্থও গুরুত্বপূর্ণ। ওয়াইফাই ৬ই ও ওয়াইফাই ৭ নেটওয়ার্কে ৮০ মেগাহার্জ বা ১৬০ মেগাহার্জ চ্যানেল উচ্চ গতিসম্পন্ন, তবে কভারেজ কমাতে পারে। ২০ বা ৪০ মেগাহার্জের চ্যানেল দীর্ঘ সংযোগের ক্ষেত্রে নিরাপদ।
কিউওএস ব্যবহার
কোয়ালিটি অফ সার্ভিস বা কিউওএস সেটিংস দিয়ে নির্দিষ্ট ডিভাইসকে প্রাধান্য দেওয়া যায়। ধীর ডিভাইস যেমন স্মার্ট লাইট বা প্লাগ ব্যান্ডউইডথ নষ্ট করতে পারে। সঠিক কিউওএস ব্যবহার করলে গেমিং, স্ট্রিমিং ও ভিডিও কল আরও মসৃণ হয়।
রাউটার ফার্মওয়্যার আপডেট
পুরোনো ফার্মওয়্যার ওয়াইফাই নেটওয়ার্ককে স্থির করে না এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করে। সবশেষ ফার্মওয়্যার ইনস্টল করলে সংযোগ স্থিতিশীল হয় এবং সাইবার ঝুঁকি কমে। কিছু রাউটারে আপডেট ম্যানুয়ালি করতে হতে পারে।
কাস্টম ডিএনএস ব্যবহার
ডিএনএস সার্ভার পরিবর্তন করলে ওয়েবপেজ লোডিং দ্রুত হয় এবং প্রাইভেসি বাড়ে। অনেক সময় রাউটার ডিফল্টভাবে আইএসপি ডিএনএস ব্যবহার করে, যা ধীর হতে পারে। কাস্টম ডিএনএস নেটওয়ার্কের নিয়ন্ত্রণ বাড়ায় এবং দ্রুততার অভিজ্ঞতা দেয়।
এই চারটি সহজ পরিবর্তনেই আপনি ধীর ওয়াইফাই সমস্যার বড় অংশ সমাধান করতে পারবেন। চ্যানেল, কিউওএস, ফার্মওয়্যার ও ডিএনএস পরিবর্তন করলে নেটওয়ার্ক হবে আরও মসৃণ, স্থিতিশীল এবং দ্রুত।