'কিউবার খুব শীঘ্রই পতন হতে যাচ্ছে'মন্তব্য করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, কিউবা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করতে চায়, তাই মার্কোকে (রুবিও) সেখানে পাঠানো হচ্ছে।
শুক্রবার (৬ মার্চ) সকালে সিএনএন-কে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরান বর্তমানে প্রধান অগ্রাধিকার।
সিএনএনের ডানা ব্যাশকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে নিজের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সাফল্যের কথা তুলে ধরতে গিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, খুব শিগগিরই কিউবারও পতন ঘটতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, বিষয়টি সরাসরি বর্তমান সংঘাতের সঙ্গে সম্পর্কিত না হলেও কিউবা একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে অত্যন্ত আগ্রহী।
ট্রাম্প ব্যাখ্যা করেন যে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মূল মনোযোগ ইরানের পরিস্থিতির দিকে। তবে কিউবাও আলোচনার জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি জানান। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কিউবার সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়টি দেখতে তিনি মার্কো রুবিওকে দায়িত্ব দিতে চান। তার ভাষায়, আপাতত ইরানই প্রধান অগ্রাধিকার, তবে কিউবার বিষয়ে কাজ করার জন্য পর্যাপ্ত সময় রয়েছে এবং প্রায় ৫০ বছর পর দেশটি আলোচনার জন্য প্রস্তুত হয়েছে।
কিউবার পরিস্থিতি সম্পর্কে ট্রাম্প আরও বলেন, তিনি বহু বছর ধরে দেশটির পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে আসছেন। তার মতে, বর্তমানে পরিস্থিতি এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে কিউবা প্রায় তার নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে এবং দেশটির অবস্থান অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে। তিনি দাবি করেন, বিষয়টি এখন তার হাতের মুঠোয় এবং যুক্তরাষ্ট্র এই প্রক্রিয়ায় ভালোভাবেই এগোচ্ছে।
এর আগের দিন হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী কিউবানদের জন্য তাদের মাতৃভূমিতে ফিরে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়া এখন শুধু সময়ের ব্যাপার। তিনি ইঙ্গিত দেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ শেষ হলে কিউবার বিষয়টিই প্রশাসনের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হতে পারে।
নিজের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে কিউবা ইস্যুতে কাজ করার জন্য রুবিও প্রস্তুত আছেন। তবে রুবিওর মতে, প্রথমে ইরানের বর্তমান পরিস্থিতির সমাধান করা প্রয়োজন।
ট্রাম্প আরও বলেন, চাইলে যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে একাধিক বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে পারত। কিন্তু তিনি মনে করেন, অতিরিক্ত তাড়াহুড়া করলে অপ্রত্যাশিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। তার মতে, ইতিহাসে দেখা গেছে, অনেক সময় দ্রুত একাধিক ইস্যু সমাধান করতে গেলে পরিস্থিতি খারাপের দিকে যেতে পারে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে তারা ধীরে ও পরিকল্পিতভাবে এগোতে চায় এবং কোনোভাবেই দেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হতে দিতে চায় না।
/ইউএমএইচ