‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

সরকার গঠনের তিন সপ্তাহের মাথায় নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর

2026-03-10T10:58:13+00:00
2026-03-10T14:16:27+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ১০:৫৮ এএম  আপডেট: ১০.০৩.২০২৬ ২:১৬ পিএম
‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী। ছবি : সংগৃহীত
সরকার গঠনের তিন সপ্তাহের মাথায় নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বনানীস্থ টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে (কড়াইল বস্তি সংলগ্ন) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর উদ্বোধন করেন।

সকাল সাড়ে দশটায় অনুষ্ঠানে প্রবেশ করে উপস্থিত সাধারণ মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। মঞ্চে তার সঙ্গে উপস্থিত আছেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

মন্ত্রী পরিষদের সদস্যসহ ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন কর্মসূচির কমিটিরা উপস্থিত আছেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআনসহ বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করা হয়। এরপর বিএনপির দলীয় সংগীত ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ’ পরিবেশন করা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রীসহ উপস্থিত সবাই হাতে হাত মিলিয়ে গালের সঙ্গে তাল মেলান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমাজকল্যান সচিব ড. আবু ইউসুফ। 

প্রধানমন্ত্রী নিজে ফ্যামিলি কার্ড বেগম পারভিন, বেগম বাসুনা, বেগম সমলা, বকুলা বেগম, বেগম জোসনা, তাসলিমা আক্তার, বেগম রাশেদা আক্তার, বেগম হোসনা আক্তার, রীনা বেগম, বেগম শামসুন্নাহার, রোকসানা আক্তার, মারফুজা, রীনা আক্তার, সুমি খাতুন, আকলিমা বেগম ও মিনারা বেগমের হাতে তুলে দেন। পরে সাততলা বস্তি ও ভাষানটেক বস্তি এলাকার রীনা বেগম ও রাশেদা তার অনুভূতি প্রকাশ করেন। ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ায় তারা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

এরপর ল্যাপটপের বাটন প্রেস করে সারাদেশের ১৩টি জেলায় একযোগে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। 

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য রাখেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন। আরও বক্তব্য রাখেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন প্রমুখ৷

এর আগে সোমবার (৯ মার্চ) সচিবালয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পাইলটিং পর্যায়ে দেশের ১৩টি জেলার ১৫টি ওয়ার্ডে এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সাধারণত ৫ জন সদস্যের জন্য ১টি কার্ড দেওয়া হবে। তবে বড় বা যৌথ পরিবারের ক্ষেত্রে আনুপাতিক হারে কার্ড সংখ্যা বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।

প্রাথমিক পর্যায়ে উপকারভোগীরা মাসিক ২,৫০০ টাকা হারে নগদ সহায়তা পাবেন। পরবর্তীতে ভাতার পরিবর্তে সমমূল্যের খাদ্যপণ্য সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। সরকার বলছে নারীর ‘ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক মুক্তি এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত’ করতে এটা যুগান্তকারী পদক্ষেপ। মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, পাইলটিং পর্যায়ে সারাদেশে মোট ৬৭,৮৫৪টি নারী প্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্য সংখ্যা, শিক্ষা, আবাসন ও জীবনযাত্রার মান যাচাই করে একটি তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা হয়েছে। কোনো রকম হস্তক্ষেপ বা স্বজনপ্রীতি রোধে “প্রক্সি মিনস টেস্ট” (পিএমটি) সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দারিদ্র্যের সূচক নির্ধারণ করা হয়েছে।

যাচাই-বাছাই শেষে ডাবল ডিপিং (একাধিক ভাতা), সরকারি চাকরি বা পেনশনভোগীদের বাদ দিয়ে চূড়ান্তভাবে ৩৭,৫৬৭টি পরিবারকে এই ভাতার জন্য মনোনীত করা হয়েছে।

ফ্যামিলি কার্ডগুলো হবে ‘আধুনিক ও নিরাপদ’। এতে স্পর্শবিহীন (কন্টাক্টলেস) চিপ, কিউআর কোড এবং জন এনএফসি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। জি-টু-পি (গভর্নমেন্ট টু পার্সন) পদ্ধতিতে ভাতার অর্থ সরাসরি উপকারভোগী নারীর ব্যাংক একাউন্ট বা মোবাইল ওয়ালেটে জমা হবে। এতে মাঝপথে কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর হস্তক্ষেপ বা অর্থ লোপাটের “সুযোগ থাকবে না”।

স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কিছু কঠোর নীতিমালা ঘোষণা করা হয়েছে। পরিবারের কোনো সদস্য সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকলে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক হলে কিংবা ৫ লক্ষ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র ও বিলাসবহুল সম্পদ (গাড়ি, এসি) থাকলে সেই পরিবার এই সুবিধার আওতাভুক্ত হবে না।

চলতি বছরের জুন পর্যন্ত এই পাইলটিং প্রকল্পের জন্য মোট ৩৮.০৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৬.০৬ শতাংশ অর্থ সরাসরি নগদ সহায়তা হিসেবে বিতরণ করা হবে এবং বাকি অংশ কার্ড তৈরি ও সিস্টেম উন্নয়নের কাজে ব্যয় হবে। এ সংক্রান্ত বিস্তারিত গাইডলাইন ইতোমধ্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে (www.msw.gov.bd) আপলোড করা হয়েছে।


সরকারের এই উদ্যোগ দেশের প্রান্তিক নারীদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশের অভিমুখে এক বড় ধাপ বলে বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদ সম্মেলনে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, পাইলটিং কর্মসূচিতে প্রথম পর্যায়ে দেশের ১৩টি জেলার ১৩ সিটি করপোরেশন/ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রতিটি ওয়ার্ডের প্রতিটি খানার তথ্য সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই ও তালিকা চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়।

সময়ের আলো/জেডআই


  বিষয়:   নির্বাচন  ফ্যামিলি কার্ড  প্রধানমন্ত্রী  তারেক রহমান  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: