সরকার গঠনের ২১ দিনের মাথায় বহুল আলোচিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতির বিন্দুমাত্র পরিবর্তন হবে না। ইরান যুদ্ধের জেরে অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কোনো ক্ষেত্রে কেবল কিছুটা সময় প্রয়োজন হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে ৩৭৫৬৪ জনকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হলেও আগামী ৫ বছরে ৪ কোটি পরিবারের হাতে এ কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার মহাখালীর কড়াইলে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তারেক রহমান।
বিএনপি সরকারের অন্যতম নির্বাচনি অঙ্গীকার পূরণে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ শুরু হলো। কড়াইল বস্তি এলাকাসংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘নতুন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণের পাইলট প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হয়। এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে কুরআন, বেদ, ত্রিপিটক, বাইবেল পাঠের পর বিএনপি দলীয় সংগীত পরিবেশ করা হয়। অনুষ্ঠানে ফ্যামিলি কার্ডের ওপরে একটি প্রামাণ্যচিত্র উপস্থাপন করা হয়। প্রধান অতিথির আগে সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বক্তব্য রাখেন। এরপর পরিবেশন করা হয় জাতীয় সংগীত।
এ অনুষ্ঠানে ১৭ জন নারীপ্রধানের হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কার্ড তুলে দেওয়ার পরপরই সরকারপ্রধান ল্যাপটপে একটি বাটন প্রেস করেন, সঙ্গে সঙ্গে উপকারীভোগীদের কাছে নগদ অর্থ চলে যায়। এ সময়ে তুমুল করতালিতে মুখর হয়ে উঠে অনুষ্ঠানস্থল।
প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন বেগম পারভিন, বেগম বাসুনা, বেগম সমলা, বকুলা বেগম, বেগম জোসনা, তাসলিমা আক্তার, বেগম রাশেদা আক্তার, বেগম হোসনা আক্তার, রীনা বেগম, বেগম শামসুন্নাহার, রোকসানা আক্তার, মারফুজা, রীনা আক্তার, সুমি খাতুন, আকলিমা বেগম ও মিনারা বেগমকে।
পরে সাততলা বস্তি ও ভাসানটেক বস্তি এলাকার রীনা বেগম ও রাশেদা তার অনুভূতি প্রকাশ করেন। ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ায় তারা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার ১৪টি স্থানে এই পাইলট প্রকল্প চালু হয়েছে। প্রথম ধাপে ৩৭ হাজার ৫৬৭ জন নারী ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর ‘ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গে সারা দেশে ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসে ভাতা পোঁছে গেছে কার্ডপ্রাপ্ত নারীর হাতে।
সরকারের কাছে মানুষ প্রত্যাশা অনুধাবন করতে পারে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, এই দেশটি আমাদের প্রথম এবং শেষ ঠিকানা। এই দেশের মানুষের প্রত্যাশা বর্তমান নির্বাচিত সরকারের কাছে অনেক, সেটি আমরা বুঝতে পারি। কিন্তু একই সঙ্গে আমরা যদি বাস্তবতা বিবেচনা করি এবং সমসাময়িক ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের যে পরিস্থিতি সবকিছু যদি বিবেচনা করি তা হলে যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছিলাম, আমরা অবশ্যই আমাদের প্রতিশ্রুতি থেকে বিন্দুমাত্র অবস্থান পরিবর্তন করব না। হয়তো সমসাময়িক বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে ক্ষেত্রবিশেষে আমাদের কিছু কিছু ক্ষেত্রে সময় বেশি লাগতে পারে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য।
সেজন্যই আজকে আমি সবাইকে অনুরোধ করব, এখানে যেসব এলাকাবাসী উপস্থিত আছেন, আপনাদের মাধ্যমে সমগ্র দেশবাসীকে এবং মিডিয়ার মাধ্যমে সমগ্র দেশবাসীকে যে, আসুন আমরা ধৈর্যের সঙ্গে সমগ্র পরিস্থিতি মোকাবিলা করি, আমরা ধৈর্যের সঙ্গে সুন্দরভাবে আমাদের এই দেশটিকে গড়ে তুলি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, তারা একটি দায়িত্বশীল সরকারের ভূমিকা পালন করতে চান। যে সরকার জনগণ ও দেশের জন্য কাজ করবে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি থাকতে চায় বলেও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, তারই একটি অংশ হিসেবে আমাদের দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নির্বাচনের পূর্বে আমরা বাংলাদেশের মানুষের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। বাংলাদেশের নারী সমাজের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে বিএনপি সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে আমরা এই ফ্যামিলি কার্ডের কাজ শুরু করব। আপনারা নিশ্চয় খেয়াল করেছেন আমরা আল্লাহর রহমতে বাংলাদেশের মানুষের সমর্থন নিয়ে বিগত নির্বাচনে সরকার গঠন করার এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে আমরা জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কাজ শুরু করেছি।
সভাপতির বক্তব্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেন, দলমত নির্বিশেষে দেশের নাগরিক হিসেবে এ কার্ড পর্যায়ক্রমে সবাই পাবে। বিগত সময়ে যেমন দলীয় লোকদের সরকারি সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে তা থেকে বেরিয়ে আসতে চায় সরকার। কথায় নয় কাজে বিশ্বাসী বিএনপি। জিয়া যেমন স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে পালিয়ে যাননি তারেক রহমানও ঘোষণা দিয়ে তা বাস্তবায়ন না করে ছাড়েননি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন, উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, সমাজকল্যাণ সচিব মোহাম্মদ আবু ইউসুফ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, এমপি, কূটনীতিসহ সরকারের বিভিন্ন দফতরের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
যেসব এলাকায় ফ্যামিলি কার্ড :
১. ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার বনানী (কড়াইল বস্তি, সাততলা বস্তি, ভাসানটেক বস্তি)।
২. ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার মিরপুর (অলিমিয়ারটেক ও বাগানবাড়ী বস্তি)।
৩. ঢাকা বিভাগের রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়ন।
৪. চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকা।
৫. চট্টগ্রাম বিভাগের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সদর পৌরসভা।
৬. চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলের বান্দরবান জেলার লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন।
৭. খুলনা বিভাগের খালিশপুর থানার খুলনা সিটি করপোরেশন এলাকা।
৮. বরিশাল বিভাগের ভোলা জেলার চরফ্যাশন থানার আসলামপুর ইউনিয়ন।
৯. সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই থানার কুলঞ্জ ইউনিয়ন।
১০. ময়মনসিংহ বিভাগের কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব থানার শিমুলকান্দি ইউনিয়ন।
১১. রাজশাহী বিভাগের বগুড়া জেলার বগুড়া সদর থানার শাখারিয়া ইউনিয়ন।
১২. রাজশাহী বিভাগের নাটোর জেলার লালপুর থানার ঈশ্বরদী ইউনিয়ন।
১৩. রংপুর বিভাগের ঠাকুরগাঁও জেলার ঠাকুরগাঁও সদর থানার রহমানপুর ইউনিয়ন।
১৪. রংপুর বিভাগের দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ থানার জয়পুর ইউনিয়ন।
চট্টগ্রাম : অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি দলীয়করণ করা হয়নি। এই কর্মসূচি নারীর ক্ষমতায়ন ও দেশে দারিদ্র্য বিমোচনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘মাইলফলক’ হয়ে থাকবে।
সকালে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় চট্টগ্রাম বিমানবন্দর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
নগরীর ৪১ নম্বর দক্ষিণ পতেঙ্গা ওয়ার্ডের ৫ হাজার ৫৭৫ পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পাবে। এর মধ্যে মঙ্গলবারের অনুষ্ঠানে ৬৮০ জনকে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়। বাকিদের মধ্যে ওয়ার্ড কার্যালয় থেকে পর্যায়ক্রমে কার্ড বিতরণ করা হবে।
খানা জরিপের মাধ্যমে ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে মোট ১০ হাজার ১২৪ জনের তালিকা প্রস্তুত করা হয়। পরে দারিদ্র্য সূচক মান (পিএমটি) স্কোরিং অনুযায়ী যাচাই-বাছাই শেষে ৫ হাজার ৫৭৫ জনকে চূড়ান্ত করা হয়।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আমার রাজনৈতিক ও কর্মজীবনে অনেক প্রকল্প দেখেছি এবং বাস্তবায়ন করেছি। তবে আজকের এই কর্মসূচি আমাকে ভিন্ন ধরনের অনুভূতি দিচ্ছে। বহু প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেও ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির অভিজ্ঞতা আমার রাজনৈতিক জীবনে একটি মাইলফলক হিসেবে থেকে যাবে।
খুলনা : খুলনা সিটি করপোরেশনের ১০ নম্বর ওয়ার্ড উপকারভোগীদের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন খালিশপুর হাজী শরিয়ত উল্লাহ বিদ্যাপীঠ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি জাতীয় সংসদের হুইপ বলেন, সরকারের ২৩ দিনের মাথায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নারীদের স্বাবলম্বী করার প্রতিশ্রুতির সফল বাস্তবায়ন আজকের এই ফ্যামিলি কার্ড। জুনের বাজেটের পর পরিপূর্ণ আকারে সবাইকে এই কার্ডের আওতায় আনা হবে।
বিশেষ অতিথি খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, এখন ফ্যামিলি কার্ড পরবর্তী সময়ে কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড, ইমাম ও পুরোহিতদের সহায়তার প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়ন করা হবে। ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধ্বে জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে আমরা কাজ করি। বিশ্বাস করি ভালো মানুষকে দিয়েই নতুন পথ তৈরি হবে।
ঠাকুরগাঁও : স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমাদের অন্য কোনো ইন্টারেস্ট নেই, আমরা ঢাকায় অভিজাত বাড়িও বানাব না কানাডায়ও বাড়ি বানাব না। আমরা এখানে কাজ করতে এসেছি কাজ করব। কেউ যদি দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হয় তা হলে ক্ষমা নেই। এ ব্যাপারে আপনারা নিশ্চিন্ত থাকেন।
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসন আয়োজিত সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নের সম্মিলিত ঈদগাহ আলিম মাদরাসা প্রাঙ্গণে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
ফ্যামিলি কার্ড ও নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ে মির্জা আলমগীর বলেন, ফ্যামিলি কার্ড শুধু একটি পরিচয়পত্র নয়, এটি একটি শক্তি ও ক্ষমতার প্রতীক। এই কার্ডের মাধ্যমে পরিবারের নারীপ্রধানরা শুধু আর্থিক সুবিধাই পাবেন না, বরং সমাজে তাদের অবস্থান আরও দৃঢ় হবে এবং নারীর ক্ষমতায়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রাথমিক তালিকায় ২ নম্বর ওয়ার্ডের ১ হাজার ৩৫ জন নারীর নাম আসে। আইডি কার্ডের জটিলতা কাটিয়ে ১ হাজার ১০ জনের তথ্য সার্ভারে আপলোড করা হয়। মন্ত্রণালয়ের অ্যাপের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় স্কোরের ভিত্তিতে ৫৮৮ জন যোগ্য নারীকে নির্বাচিত করা হয়েছে।
বগুড়া : ঈদের আগেই যেন আরেকটি ঈদের আনন্দ নেমে এসেছে বগুড়ার অনেক নিম্নআয়ের পরিবারের ঘরে। নতুন চালু হওয়া ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে সরাসরি আড়াই হাজার টাকা পেয়ে খুশিতে ভাসছেন উপকারভোগীরা।
বিএনপি সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারের সহায়তায় মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় এই কর্মসূচি। রাজধানীর মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি কলোনি মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। একই সময়ে বগুড়াসহ দেশের কয়েকটি জেলায় একযোগে কার্যক্রম শুরু হয়।
বগুড়ায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান। উদ্বোধনের দিনেই উপকারভোগীদের মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে আড়াই হাজার টাকা জমা হওয়ায় অনেকের মুখে ফুটে ওঠে স্বস্তির হাসি। বগুড়ায় এই কর্মসূচির আওতায় ৫৪৪টি পরিবার আর্থিক সহায়তা পাচ্ছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া : ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে কোনো দুর্নীতির জায়গা নেই, এটি কোনোভাবেই দলীয়কৃত হবে না বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার জনগন্নাথপুর অডিটোরিয়ামে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন তিনি।
পাইলট কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে বাঞ্ছারামপুর পৌর এলাকার ৮৬টি পরিবারের নারীপ্রধানকে এ কার্ড দেওয়া হয়েছে। কার্ড বিতরণে দরিদ্র, হতদরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের নারী প্রধানকে বাছাই করা হয়েছে। কার্ডের মাধ্যমে পরিবারের নারী প্রধানরা আড়াই হাজার টাকা করে অর্থ সহায়তা পাবেন। পর্যায়ক্রমে আরও দরিদ্র, হতদরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের নারী প্রধানকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনের সংসদ সদস্য জোনায়েদ সাকি বলেন, ইতিমধ্যে ফ্যামিলি কার্ডের টাকা নারীপ্রধানদের অ্যাকাউন্টে চলে গেছে। এখানে দুর্নীতির কোনো সুযোগই নেই। কতগুলো মানদণ্ড আছে, তার ভিত্তিতে স্থানীয় এবং কেন্দ্রীয়ভাবে এটি ঠিক হচ্ছে। এটি কোনোভাবেই দলীয়কৃত হবে না। সরকার তার অঙ্গীকার বাস্তবায়ন শুরু করেছে।
তিনি আরও বলেন, সরকার সবার আগে জনগণের কথা ভেবেছে। জনগণের মধ্যে যারা সবচেয়ে প্রান্তিক, আর্থিক দিক থেকে যারা দুর্বল অবস্থায় আছে; তাদের সবার আগে বিবেচনায় এনেছে। আগামী বাজেট থেকে ফ্যামিলি কার্ড ধীরে ধীরে সবার জন্য উন্মুক্ত হতে থাকবে। কাজেই আপনারা আশ্বস্ত থাকেন, এটি কেবল বিশেষ কয়েকজনকে দেওয়া হচ্ছে না। সবার কাছেই এই সুবিধা ধীরে ধীরে পৌঁছাবে।
বান্দরবান : সারা দেশের ন্যায় বাংলাদেশের পাইলট প্রকল্পের প্রথম ধাপে বান্দরবানের ১ হাজার ৯৭টি পরিবারের মাঝে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান। লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের উপকারভোগীদের নিয়ে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার হলো ‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক।’ নারীর ক্ষমতায়ন, দারিদ্র্য নিরসন এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রম চালু করেছে।
সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার ৯ নম্বর কুলঞ্জ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের উপকারভোগীদের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি।
মঙ্গলবার দুপুরে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের এম এ রুপ জুনিয়র স্কুল মাঠে নারীদের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের উদ্বোধন করা হয়।
এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচন-পরর্বর্তী প্রথম অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পদক্ষেপ। যা বাংলাদেশের আপামর মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটাবে। এর ফলশ্রুতিতে এক মাসের মধ্যে যা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছে। ইচ্ছা করলে সরকার তা বিলম্ব করতে পারত। দেশের ১০টি জায়গায় এই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে। যা প্রমাণ করে প্রধানমন্ত্রী তার নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
সময়ের আলো/আরবিএন