দলের এক নেতার মন্তব্যকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার মুখে পড়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুকের সাম্প্রতিক একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় দলের পক্ষ থেকে তাকে সতর্ক করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
সোমবার (৯ মার্চ) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শুধু ২০২৬ বা ২০৩১ নয়, বরং ২০৩৭ এমনকি ২০৪২ সাল পর্যন্তও দেশের প্রধানমন্ত্রী থাকবেন।’
সেদিন তিনি আরও বলেন, ‘সূর্য উঠলেই বোঝা যায় দিন কেমন যাবে। তারেক রহমানের নেতৃত্বের শুরুতেই বোঝা গেছে—এই মানুষটিকে দিয়েই হবে।’
ফারুকের এই মন্তব্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং নানা মহলে সমালোচনার জন্ম দেয়। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যেখানে জনগণের ভোটের মাধ্যমে সরকার ও নেতৃত্ব নির্ধারিত হয়, সেখানে এত দীর্ঘ সময়ের জন্য একজন নেতার প্রধানমন্ত্রী থাকার আগাম ঘোষণা বা ভবিষ্যদ্বাণী করা কতটা যৌক্তিক।
এদিকে, সমালোচনার মধ্যেই বুধবার দলটির সূত্রে জানা যায়, এ ধরনের বক্তব্যের কারণে জয়নুল আবদিন ফারুককে সতর্ক করা হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নেতাদের ব্যক্তিগত বক্তব্য যেন দলীয় অবস্থান হিসেবে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে বলা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বড় রাজনৈতিক দলের নেতাদের বক্তব্য প্রায়ই দলীয় নীতির প্রতিফলন হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। ফলে দায়িত্বশীল ও সমন্বিত বক্তব্য না হলে তা দলের জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
বিশেষ করে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যে কোনো মন্তব্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।
তাদের মতে, এই ঘটনাটি শুধু একটি বক্তব্যকে ঘিরে বিতর্কই নয়; বরং এটি রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে বার্তা নিয়ন্ত্রণ ও দলীয় শৃঙ্খলার গুরুত্বকেও সামনে এনে দিয়েছে। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে, ব্যক্তিকেন্দ্রিক মন্তব্য বা অতিরিক্ত রাজনৈতিক ভবিষ্যদ্বাণী গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে কতটা গ্রহণযোগ্য।
সময়ের আলো/কেএইচও