২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে রক্তক্ষয়ী বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী সরকারের পতন হয়। এ বিক্ষোভের সময় পুলিশের বিরুদ্ধে এক হাজারের বেশি আন্দোলনকারীকে গুলি চালিয়ে হত্যার অভিযোগ আছে। এছাড়া আন্দোলনের পুরোটা সময় সরকারের পক্ষে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে পুলিশ ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে ব্যাপক দমন-পীড়ন চালায়।
নিরাপত্তা বাহিনীর গুলি উপেক্ষা করে এদেশের ছাত্রদের নেতৃত্বে জনতা রাজপথ দখল নেয় এবং ওই বছরের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে দেড় যুগের বেশি সময় টিকে থাকা শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়। স্বাভাবিকভাবে সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের বাইরে আন্দোলনকারীদের বড় ক্ষোভের জায়গা ছিল পুলিশ।
অভ্যুত্থানের মাত্র ১ দিন আগে সিরাজগঞ্জ জেলার এনায়েতপুর থানায় আন্দোলনকারীরা ১৫ জন পুলিশ সদস্যকে হত্যা করে। এছাড়াও সারাদেশে বিভিন্ন থানায় আক্রমণ করে আগুন দেওয়া, ভাংচুরসহ পুলিশ সদস্যদের জখম করা হয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এই আন্দোলনে ৪৪ জন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর পুলিশ হত্যা ও থানায় আক্রমণের বিষয়টিকে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এবং ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার এসব ঘটনার দায়মুক্তি দিয়ে অধ্যাদেশ জারি করে। কিন্তু ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে বিএনপি ২১৪ আসনে জয়ী হয়ে নতুন সরকার গঠনের পর পুলিশ হত্যার তদন্ত নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় পক্ষে-বিপক্ষে কথাবার্তা চলতে থাকে।
এরমধ্যে সম্প্রতি মৌলভীবাজার-৩ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এম নাসের রহমানের একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, পুলিশ মারাটা ফরজে কেফায়া ছিলো। পুলিশ হইছেতো কি হইছে, মরবেইতো। যে পুলিশ আমাদের নিরীহ ইনোসেন্ট ছেলেদের মেরেছে, তাদের প্রতিহত করতে গিয়ে পুলিশ মরেছে, তো কি হইছে!
জানা গেছে, তিনি ২০২৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি এক কর্মী সমাবেশে এই বক্তব্য দেন। ওই সমাবেশে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এমন মন্তব্য করেন।
ভিডিওটি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন মহলে এ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই বক্তব্যটিকে বিতর্কিত বলে মন্তব্য করছেন। তাদের দাবি, দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার দলীয় কারো কাছ থেকে পুলিশের বিষয়ে এখন তীর্যক ও উস্কানিমূলক বক্তব্য কাম্য নয়।
অন্যদিকে আরেকপক্ষ বলছে, জুলাইয়ের বাস্তবতায় পুলিশের যে ভূমিকা ছিল; এমপি নাসের সে বিষয়টিকে মনে করিয়ে দিয়েছেন মাত্র।
তবে এ বিষয়ে সংসদ সদস্য এম নাসের রহমানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
/এমএইচআর