জম্মু-কাশ্মীর ন্যাশনাল কনফারেন্সের সভাপতি ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাহ এক ভয়াবহ সশন্ত্র হামলা থেকে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন।
বুধবার (১১ মার্চ) সন্ধ্যায় জম্মুর গ্রেটার কৈলাসের রয়্যাল পার্কে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার সময় তাকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়।
এনডিটিভির প্রতিবেদন ও ঘটনাস্থলের ভিডিওতে দেখা গেছে, হামলাকারী ফারুক আবদুল্লাহর মাত্র কয়েক পা পেছনে অবস্থান করছিলেন এবং তার পিস্তলটি আবদুল্লাহর কাঁধ বরাবর তাক করা ছিল। তবে ঠিক গুলিবর্ষণের মুহূর্তে ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ড (এনএসজি) কমান্ডোরা হামলাকারীকে ধাক্কা দিলে গুলিটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় এবং ৮৮ বছর বয়সি এই প্রবীণ নেতা অক্ষত থাকেন।
হামলাকারীকে কমল সিং জামওয়াল হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে, যিনি জম্মুর পুরানা মান্ডির বাসিন্দা।
পুলিশি হেফাজতে থাকার সময় তিনি জানান, গত ২০ বছর ধরে তিনি এই মুহূর্তটির অপেক্ষায় ছিলেন।
ঘটনার পরপরই উপস্থিত উত্তেজিত জনতা তাকে গণপিটুনি দেয় এবং পরে পুলিশ তাকে দ্রুত নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়।
ঘটনার সময় ফারুক আবদুল্লাহর সঙ্গে জম্মু ও কাশ্মীরের উপমুখ্যমন্ত্রী সুরিন্দর চৌধুরী এবং মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা নাসির সোগামি উপস্থিত ছিলেন।
উপদেষ্টা সোগামি এই ঘটনাকে একটি নিশ্চিত ‘হত্যাচেষ্টা’ হিসেবে অভিহিত করে জানান যে, আল্লাহর রহমতে গুলিতে কেউ আহত হননি এবং ফারুক আবদুল্লাহ সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন।
এদিকে সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর জেড-প্লাস এবং এনএসজি নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে একজন সশস্ত্র ব্যক্তি কীভাবে এত কাছে পৌঁছাতে পারল, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লিখেছেন, ক্লোজ প্রোটেকশন টিমের বাধার কারণেই এই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
তবে এমন কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীতে এই ধরনের নিরাপত্তা ত্রুটি কীভাবে সম্ভব হলো, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।
পুলিশ পুরো বিষয়টি তদন্ত করছে এবং এই হামলার পেছনে সুনির্দিষ্ট কোনো বড় ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সময়ের আলো/আরবিএন