ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অর্থ উপার্জনের একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে তিনি মন্তব্য করেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ হওয়ায় তেলের দাম বাড়লে দেশ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ উপার্জন করতে পারবে।
তবে একই সঙ্গে তিনি এটিও উল্লেখ করেন, অর্থ উপার্জনের চেয়ে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখা তার কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অ্যারিজোনার মার্কিন সিনেটর মার্ক কেলি ট্রাম্পের এই অবস্থানের কড়া সমালোচনা করে বলেছেন, ট্রাম্প যে যুদ্ধ শুরু করেছেন তাতে সাধারণ কর্মজীবী আমেরিকানরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
তিনি আরও যোগ করেন, গ্যাসের আকাশচুম্বী দামের ফলে কেবল বড় তেল কোম্পানিগুলোই লাভবান হচ্ছে এবং ট্রাম্প এতে খুশি কারণ তিনি কেবল ধনীদের স্বার্থ নিয়েই চিন্তিত।
ডেমোক্র্যাটিক দলের আইনপ্রণেতা মার্ক পোকান এবং ডন বেয়ারও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করে ট্রাম্পের মানসিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।
ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে সমালোচনার জবাব দিয়েছেন হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কুশ দেশাই।
সমালোচকদের বক্তব্যকে ‘বোকামি’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ইরান যুদ্ধের কারণে তেল ও গ্যাসের দাম সাময়িকভাবে বাড়লেও যুদ্ধ শেষ হলে তা আবার স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
তিনি আরও স্পষ্ট করেন, বর্তমান প্রশাসনের শক্তিশালী জ্বালানি নীতির কারণেই যুক্তরাষ্ট্র আজ বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল ও গ্যাস উৎপাদনকারী এবং রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে, যা প্রেসিডেন্টের মূল বক্তব্যে ফুটে উঠেছে।
বর্তমানে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই বহুমুখী সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ৯ শতাংশের বেশি বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারে পৌঁছেছে।
জ্বালানি বাজারের এই অস্থিরতার মধ্যেই ইরাকের একটি বন্দরে দুটি তেল ট্যাঙ্কারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে ইরানি হামলার সন্দেহ করা হচ্ছে।
এছাড়া যুদ্ধের উত্তেজনায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে অসংখ্য তেলবাহী জাহাজ আটকা পড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা গভীর সংকটের মুখে পড়েছে।
সময়ের আলো/আরবিএন