নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে ঘিরে নিরাপত্তা জোরদারের মধ্যেই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু যে হোটেলে নিয়মিত অবস্থান করেন, তার কাছের একটি ম্যানহোল থেকে বেরিয়ে আসা দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে নিউইয়র্ক পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার দুজনের সঙ্গে নেতানিয়াহু, জাতিসংঘ বা কোনো আন্তর্জাতিক সরকারি কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করার যোগসূত্র পাওয়া যায়নি। বরং নিউইয়র্কের নর্দমা ও ভূগর্ভস্থ পথে ঢুকে মূল্যবান জিনিসপত্র ও ধাতব সামগ্রী খোঁজার একটি অপরাধপ্রবণতার অংশ হিসেবেই তারা সেখানে গিয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন কুইন্সের বাসিন্দা ২৬ বছর বয়সী কেভিন রদ্রিগেজ ও ২৫ বছর বয়সী স্যামুয়েল রেভেরন। তাদের বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে প্রবেশের অভিযোগ আনা হয়েছে। শুক্রবার ম্যানহাটন ক্রিমিনাল কোর্টে হাজির করার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
রেভেরনের আইনজীবী ব্রায়ান কেনেডি তার মক্কেলের সঙ্গে জাতিসংঘ বা কোনো আন্তর্জাতিক সরকারি কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার কথা অস্বীকার করেছেন। তাঁর ভাষ্য, মূল্যবান জিনিসপত্রের সন্ধানে কেউ নর্দমায় ঢুকে থাকতে পারে— এটি পুরোপুরি সম্ভব।
বুধবার ভোরে নেতানিয়াহুর হোটেলের বাইরে ম্যানহোল থেকে তিন ব্যক্তিকে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। পরদিন ওই হোটেলে নেতানিয়াহুর থাকার কথা ছিল। ঘটনাটি প্রথমে জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে পুলিশের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করে। বিশেষ করে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন এবং সংবেদনশীল স্থাপনার কাছাকাছি ভূগর্ভস্থ পথে প্রবেশের কারণে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি) ও মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস।
তদন্তকারীরা বিভিন্ন ভিডিও, গাড়ির নম্বর শনাক্তকারী ক্যামেরার তথ্য এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করার চেষ্টা করেন। পাশাপাশি গোয়েন্দারা ম্যানহাটনের পার্ক অ্যাভিনিউ এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছিলেন, ভোর ৪টার পর তিন ব্যক্তিকে দুটি গাড়িতে উঠতে দেখা যায়।
এরপর একটি গাড়ির নম্বর শনাক্ত করে সেটি এনওয়াইপিডির লাইসেন্স প্লেট রিডার ব্যবস্থায় পরীক্ষা করা হয়। এর মাধ্যমে গাড়িটির চলাচলের তথ্য, নিবন্ধিত মালিক এবং ওই ব্যক্তির আগের ট্রাফিক মামলায় পুলিশের বডি ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওও পাওয়া যায়।
পরে গোয়েন্দারা গাড়িটির নিবন্ধিত ঠিকানায় গিয়ে নজরদারি চালান। সন্দেহভাজন ব্যক্তি গাড়িটির কাছে আসার পর তাকে আটক করা হয়। তবে দুই সন্দেহভাজনকে একসঙ্গে নাকি আলাদাভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। আরও কয়েকজন সন্দেহভাজনকে খুঁজছে পুলিশ।
গত কয়েক মাসে নিউইয়র্কের নর্দমা ও ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গে এ ধরনের অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ভোরের দিকে হিপ ওয়েডার ও বুট পরে মানুষকে ম্যানহোলে ঢুকতে বা সেখান থেকে বের হতে দেখা যাওয়ার ভিডিওও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে।
পুলিশের তদন্তে গ্রেপ্তার হওয়া কয়েকজনের কাছ থেকে জানা গেছে, তারা মূল্যবান জিনিসপত্রের সন্ধানে ভূগর্ভস্থ পথে ঢুকেছিল। এসব জিনিসের মধ্যে সোনার চেইন, আংটি এবং পুনর্বিক্রির উপযোগী তামার মতো ধাতুও রয়েছে।
নেতানিয়াহুর হোটেলের কাছে ম্যানহোলে ঢোকার ঘটনায় শুরুতে জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলেও তদন্তে শেষ পর্যন্ত ঘটনাটির পেছনে মূল্যবান সামগ্রী খোঁজার উদ্দেশ্যই সামনে এসেছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সময়ের আলো/কেএইচ