কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে ব্রহ্মপুত্র নদের উপকূলীয় এলাকা। শনিবার (১৪ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার গাজিরপাড়া এলাকায় এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন আরও একজন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে হঠাৎ করে তীব্র বেগে ঘূর্ণিঝড় শুরু হলে গাজিরপাড়া নৌকা ঘাটে থাকা নিজেদের নৌকা রক্ষা করতে যান মিন্টু মিয়া (৫০) ও ফরিদ উদ্দিন (৪৫)। ব্রহ্মপুত্র নদের উত্তাল তরঙ্গ ও প্রবল বাতাসের ঝাপটায় তারা দুর্ঘটনাকবলিত হন।
নিহত মিন্টু মিয়া ওই এলাকার মো. শাহাবুদ্দিনের ছেলে। নিখোঁজ রয়েছেন ইছাহাক আলীর ছেলে ফরিদ উদ্দিন।
ঝড়ের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, ঘাটে নোঙর করা অন্তত ১২টি নৌকা ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে এবং এলাকার ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রোববার (১৫ মার্চ) সকাল ৯টায় ঢুষমারা কেন্দ্রীয় কবরস্থানে নিহত মিন্টু মিয়ার জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
অন্যদিকে, নিখোঁজ ফরিদ উদ্দিনকে উদ্ধারে ব্রহ্মপুত্র নদে স্থানীয়রা তল্লাশি চালালেও আজ দুপুর পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
চিলমারী ইউপি চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, হঠাৎ প্রচণ্ড কালবৈশাখী ও ঘূর্ণিঝড়ের কারণে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। ঝড়ে ১২টি নৌকা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছি এবং উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি।
এই ঘটনায় পুরো গাজিরপাড়া এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী জনপদ।
এফআর