সরকারের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারণী কর্মকাণ্ডে সাম্প্রতিক সময়ের অভিজ্ঞতা থেকে আশাবাদের কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক বিন মাহমুদ হারুন। তার মতে, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের কিছু বৈশিষ্ট্য বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, গত এক মাসে বিভিন্ন আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক ও সরাসরি আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাজের ধরন কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে তার।
আশিক চৌধুরীর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী আলোচনায় অংশগ্রহণকারীদের মতামত মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা দেখান না। পাশাপাশি প্রতিটি উদ্যোগের ফলাফল ও বাস্তবায়নের সময়সীমা নিয়ে তার জোরালো আগ্রহ রয়েছে, যা প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আনতে পারে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ব্যক্তিগত আচরণেও প্রধানমন্ত্রী সময়নিষ্ঠা, সরলতা ও শৃঙ্খলার দৃষ্টান্ত স্থাপন করার চেষ্টা করছেন- যা সরকারি ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সহায়ক হতে পারে।
আরও পড়ুন
একই পোস্টে বিনিয়োগ পরিস্থিতি উন্নয়নে বিডার আগামী ১৮০ দিনের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে বিদেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি দেশীয় বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
পরিকল্পনার উল্লেখযোগ্য দিকগুলোর মধ্যে রয়েছে- বন্ধ ও রুগ্ন শিল্পকারখানা পুনরুজ্জীবন, বিকল্প জ্বালানি উৎস অনুসন্ধান, বন্দর ব্যবস্থাপনা আধুনিকীকরণ, এবং ব্যবসা সংক্রান্ত সেবা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনা। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে নতুন চুক্তি সম্পাদনের উদ্যোগও রয়েছে।
আশিক চৌধুরী জানান, ছয় মাস পর এসব পরিকল্পনার অগ্রগতি মূল্যায়ন করে একটি ‘রেজাল্ট কার্ড’ প্রকাশ করা হবে, যেখানে সফলতা ও সীমাবদ্ধতা উভয়ই তুলে ধরা হবে। তার এই মন্তব্য ও পরিকল্পনা বর্তমান সরকারের অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার এবং বিনিয়োগ আকর্ষণের কৌশল নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
এএডি/