ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংসস্তূপ হলেও মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের উপস্থিতি এখনও রহস্য তৈরি করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান প্রথাগত যুদ্ধের বদলে ‘অপ্রতিসম’ বা অসম শক্তির কৌশলেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।
ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সরঞ্জাম নির্দিষ্ট বড় ঘাঁটিতে রাখার বদলে পাহাড়ি গুহা, সুড়ঙ্গ ও সাধারণ এলাকায় ছড়িয়ে দিয়েছে। ফলে স্যাটেলাইটে হামলার চিহ্ন ধরা পড়ার আগেই এগুলো দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে, যা সরাসরি স্থল অভিযান ছাড়া ধ্বংস করা প্রায় অসম্ভব।
এখন তারা বড় হামলার বদলে ‘হ্যারাসমেন্ট ফায়ার’ বা বিরক্তিকর হামলার কৌশল ব্যবহার করছে।
যদিও সংখ্যায় কম, কিন্তু এই ছোট হামলার মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব বিশাল। একটি বা দুটি ড্রোন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আঘাত করলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বোধ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং শত্রুপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সারাক্ষণ সতর্ক থাকে। এছাড়া, এটি ‘সস্তা অস্ত্র বনাম ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা’ কৌশল।
ইরানের একটি ড্রোন তৈরি খরচ কয়েক হাজার ডলার, কিন্তু তা ধ্বংস করতে শত্রুকে খরচ করতে হয় মিলিয়ন ডলারের ইন্টারসেপ্টর মিসাইল।
ইরান একই সঙ্গে বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারেও চাপ তৈরি করতে চায়।
যুদ্ধের কারণে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় পশ্চিমা দেশগুলোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তেহরান আশা করছে, এই দীর্ঘায়িত অস্থিরতা শত্রুকে মানসিক ও অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল করবে।