এবার এআই ক্যামেরার আওতায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক

সময়ের আলো ডেস্ক

জাতীয়

অপরাধ ও মাদক চোরাচালানের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে এবার ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ককে অত্যাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই)

2026-07-20T18:27:56+00:00
2026-07-20T18:27:56+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬,
৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
এবার এআই ক্যামেরার আওতায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ৬:২৭ পিএম 
ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ককে অত্যাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ক্যামেরা ও সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে। ছবি : সংগৃহীত
অপরাধ ও মাদক চোরাচালানের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে এবার ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ককে অত্যাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ক্যামেরা ও সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে।

সোমবার (২০ জুলাই) বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) এ তথ্য নিশ্চিত করে হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ফারুক আহমেদ জানান, ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কও একই ধরনের নজরদারি ব্যবস্থার আওতায় এসেছে।

ফারুক আহমেদ বলেন, ‘পুরো ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। পাশাপাশি মহাসড়কটির ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। ফলে হাইওয়ে পুলিশ এখন কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।’

ফারুক আহমেদ বলেন, ‘সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্পের আওতায় ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এআই ক্যামেরা বসানো হয়েছে।’

তিনি জানান, এসব এআই ক্যামেরা পরিচালনার আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তরের জন্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের প্রক্রিয়া চলছে। তবে এরইমধ্যে অনানুষ্ঠানিকভাবে হাইওয়ে পুলিশ এ নজরদারি ব্যবস্থা পরিচালনা করছে।

তিনি বলেন, ‘উন্নত এই নজরদারি ব্যবস্থা হাইওয়ে পুলিশের কার্যক্রমকে আরও দক্ষ করবে এবং ডাকাতি ও মাদক পরিবহনসহ মহাসড়ককেন্দ্রিক বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

তিনি আরও জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই ক্যামেরা স্থাপনের কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। খুব শিগগিরই এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। দেশের বাকি মহাসড়কগুলোও পর্যায়ক্রমে একই ধরনের নজরদারির আওতায় আনা হবে, যাতে মহাসড়কের অপরাধ দ্রুত দমন এবং দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা মোকাবেলা করা যায়।

ফারুক আহমেদ বলেন, ‘হাইওয়ে পুলিশের প্রধান দুটি দায়িত্ব হলো ডাকাতি ও মাদক পাচারের মতো মহাসড়ককেন্দ্রিক অপরাধ দমন এবং যানজট কমিয়ে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা।’

তিনি বলেন, ‘আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল মহাসড়ক গড়ে তোলার উদ্যোগ আরও জোরদার করা হচ্ছে।’

ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে কার্যক্রমের দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর পাশাপাশি তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এ ছাড়া জনগণের আস্থা বৃদ্ধি এবং সেবাগ্রহীতাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কমিউনিটিভিত্তিক পুলিশিং জোরদার করা হচ্ছে।

কর্মকর্তাদের মতে, প্রযুক্তির ব্যবহার, তথ্যভিত্তিক জবাবদিহি এবং জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধির মাধ্যমে মহাসড়ক আরও নিরাপদ হবে এবং জনসেবার মানও উন্নত হবে।

গত ৭ জুলাই হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া ১৭তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের কর্মকর্তা ফারুক আহমেদ জানান, তিনি দেশের মহাসড়ককে চাঁদাবাজি ও হয়রানিমুক্ত করতে বদ্ধপরিকর।

তিনি বলেন, ‘আগামী দুমাসের মধ্যে মহাসড়ককে চাঁদাবাজি ও হয়রানিমুক্ত করতে সক্ষম হব বলে আমি আত্মবিশ্বাসী।’

তিনি আরও আশ্বাস দেন, আগামী দুই মাস পর হাইওয়ে পুলিশের সদস্যদের বিরুদ্ধে যানবাহন থেকে অর্থ আদায়ের কোনো অভিযোগ থাকবে না।

ফারুক আহমেদ জানান, বর্তমানে সারা দেশে হাইওয়ে পুলিশের ৭৩টি থানা রয়েছে। আরও কার্যকর সেবা নিশ্চিত করতে থানার সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

২০০৫ সালের ১১ জুন প্রতিষ্ঠিত হাইওয়ে পুলিশ বাংলাদেশ পুলিশের একটি বিশেষায়িত ইউনিট, যার প্রধান দায়িত্ব দেশের মহাসড়কে নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ও নির্বিঘ্ন যান চলাচল নিশ্চিত করা।

১৮৬১ সালের পুলিশ আইনের ১২ ধারার আওতায় পরিচালিত এ ইউনিট মোটরযান অধ্যাদেশ, ১৯৮৩ অনুযায়ী বিভিন্ন অপরাধের তদন্তও করে থাকে।

হাইওয়ে পুলিশের প্রধান দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, মহাসড়কের অপরাধ প্রতিরোধ, সড়ক দুর্ঘটনার তদন্ত, ট্রাফিক আইন প্রয়োগ, মহাসড়কে টহল, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং যান চলাচল ব্যবস্থাপনা।

বর্তমানে অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের নেতৃত্বে চারটি বিভাগ, আটটি অঞ্চল, সাতটি ক্যাম্প, ৭৩টি হাইওয়ে থানা ও ১০টি সার্কেলের মাধ্যমে সারা দেশে সংস্থাটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অনুমোদিত জনবল ২ হাজার ৮১৪ জন।

হাইওয়ে পুলিশের আটটি আঞ্চলিক কার্যালয় গাজীপুর, কুমিল্লা, বগুড়া, মাদারীপুর, সিলেট, খুলনা, রংপুর ও ময়মনসিংহে অবস্থিত।

জনবল ও সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও হাইওয়ে পুলিশ বর্তমানে দেশের প্রায় ১১ হাজার ৮০৬ কিলোমিটার মহাসড়কে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালন করছে।

সময়ের আলো/কেআই


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: