রোজার শেষের দিকে এসে জমে উঠেছে ঈদের কেনাবেচা। ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী নিত্যনতুন পোশাকের সম্ভার সাজিয়েছে বরিশালের বিপণি বিতানগুলো। আকর্ষণীয় ডিজাইনের নতুন নতুন কালেকশন এনেছেন ব্যবসায়ীরা।
অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় এবার কেনাবেচাও জমজমাট বলছেন ব্যবসায়ীরা। তবে গত বছরের তুলনায় দাম বেশি বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা।
ঈদে নির্বিঘ্নে যাতে সবাই কেনাকাটা করতে পারে তার জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ। নগরীর বিভিন্ন মার্কেট ও শপিংমলে সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, মার্কেটে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সেখানে পুলিশ, ডিবি পুলিশ, সিটিএসবি টিম কাজ করছে। মার্কেটে যাতে ছিনতাই না হয় তাই পুলিশকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বাড়তি ট্রাফিক পুলিশের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে সবাই সুন্দরভাবে কেনাকাটা করতে পারে।
নগরীর ঐতিহ্যবাহী চকবাজার মার্কেট। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের জন্য এই মার্কটটি খুব জনপ্রিয়। এখানে নারী ও শিশুদের শাড়ি, থ্রিপিস, জুতা ও প্রসাধনী সবই মেলে। তাই এখানে পা ফেলার জায়গা নেই। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে ততই বরিশালের চকবাজার এলাকায় ভিড় বাড়ছে। বিশেষ করে শিশুদের পোশাকের দোকানে ভিড় বেশি। এ বছর দেশি পোশাকের পাশাপাশি বিদেশি পোশাকেরও বেশ চাহিদা। তবে দাম বেশি বলে দাবি ক্রেতাদের।
এ বছর ঈদ মার্কেটে মেয়েদের নায়রা, সারারা, গায়রা, পাকিস্তানি, ভারতীয়, ফারসি বিভিন্ন নামে-বেনামে পোশাক বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে সারারা, গারারা, ফারসি পোশাকে নজর বেশি ক্রেতাদের।
৩০০০ থেকে শুরু করে ১৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে এসব পোশাক। এ ছাড়া জামদানি, সিল্কসহ বিভিন্ন ধরনের শাড়ি বিক্রি হচ্ছে ২০০০-৫০০০ টাকার মধ্যে। বাজারে সাদা বাহার, অরগানজার, হেনা, ফারসি কামিজ ৩ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া পাঞ্জাবি বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকায়।
ঈদে পরিবারের জন্য কেনাকাটা করতে আসা আনিসুর রহমান বলেন, মার্কেটে পোশাক ভালো মানের থাকলেও দাম অনেক চড়া। আমাদের মত যারা সাধারণ ক্রেতা তাদের নাগালের বাইরে দাম। সরকার যদি বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে কাজ করত তা হলে সবার জন্য ভালো হতো। বাবার সঙ্গে মার্কেটে আসা মুনতাহার কথায়, আমি আমার বাবা মায়ের সঙ্গে এসেছি। নিজের পছন্দমতো সারারা জামা কিনেছি।
আরেক ক্রেতা সোনিয়া বেগম বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর দাম অনেক বেশি। পরিবারের সবার জন্যই কিনতে হবে। কিস্তু মার্কেটে জামা-কাপড়ের দাম অনেক বেশি। আরেক ক্রেতা লাভলি আক্তার বলেন, আমরা যারা মধ্যবিত্ত তাদের সাধ্যের বাইরে সবকিছু। তারপরও সবার জন্য কেনার চেষ্টা করছি। সরকার দাম নিয়ন্ত্রণ করলে আমাদের উপকার হতো।
সময়ের আলো/এআর