পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে সিরিজ জয়ের আনন্দ এখনও টাটকা। সেই জয়ের রেশ এবার স্পষ্ট হয়ে উঠল আইসিসির সর্বশেষ র্যাঙ্কিংয়েও। বল হাতে দারুণ পারফরম্যান্স করে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ যেমন আবারও জায়গা করে নিয়েছেন সেরাদের কাতারে, তেমনি বড় লাফ দিয়ে নজর কেড়েছেন তরুণ পেসার নাহিদ রানা। পুরো দলজুড়েই যেন পারফরম্যান্সের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে র্যাঙ্কিংয়ের এই হালনাগাদে।
বুধবার প্রকাশিত আইসিসির সাপ্তাহিক র্যাঙ্কিংয়ে ওয়ানডে বোলারদের তালিকায় ৯ ধাপ এগিয়ে সপ্তম স্থানে উঠে এসেছেন মিরাজ। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সই তাকে এই সাফল্য এনে দিয়েছে। প্রথম ম্যাচে ২৯ রানে ৩ উইকেট এবং দ্বিতীয় ম্যাচে ৩৪ রানে ২ উইকেট নিয়ে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। যদিও সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ম্যাচে উইকেটশূন্য ছিলেন, তবুও প্রথম দুই ম্যাচের পারফরম্যান্সই তাকে এগিয়ে দিয়েছে। ওয়ানডে বোলারদের তালিকায় এটি তার ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেরা অবস্থান।
সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছেন তরুণ পেসার নাহিদ রানা। এক লাফে ৬৫ ধাপ এগিয়ে প্রথমবারের মতো ঢুকে পড়েছেন শীর্ষ একশতে। এখন তার অবস্থান ৯৮তম। সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ২৪ রানে ৫ উইকেট নিয়ে একাই গুঁড়িয়ে দেন পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ। বাংলাদেশের হয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে এটি সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড। পরের দুই ম্যাচে কিছুটা খরুচে হলেও আরও ৩ উইকেট যোগ করে সিরিজে নিজের প্রভাব ধরে রাখেন তিনি। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে তানজিদ হাসানের সঙ্গে যৌথভাবে জেতেন সিরিজ সেরার পুরস্কার।
শেষ ম্যাচে বল হাতে জ্বলে ওঠেন তাসকিন আহমেদ। ৪৯ রানে ৪ উইকেট নিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি। পুরো সিরিজে মোট ৬ উইকেট নিয়ে ১২ ধাপ এগিয়ে এখন ২৮তম স্থানে আছেন এই অভিজ্ঞ পেসার। বাঁ-হাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানও ছিলেন ধারাবাহিক। সিরিজে মোট ৫ উইকেট নিয়ে ১৩ ধাপ এগিয়ে এখন ৪৭তম স্থানে উঠে এসেছেন তিনি।
অন্যদিকে পাকিস্তানের বোলারদের মধ্যে তেমন কোনো বড় পরিবর্তন দেখা যায়নি। আগের মতোই ওয়ানডে বোলারদের তালিকায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন আফগানিস্তানের রশিদ খান। ব্যাটসম্যানদের তালিকায়ও শীর্ষে আছেন নিউজিল্যান্ডের ড্যারিল মিচেল।
বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সবচেয়ে বড় উন্নতি করেছেন তানজিদ হাসান। সিরিজের শেষ ম্যাচে ১০৭ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলে ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। এই ইনিংসের সুবাদে ৩১ ধাপ এগিয়ে এখন ৫৫তম স্থানে আছেন বাঁ-হাতি এই ওপেনার। তাওহিদ হৃদয়ও ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে দুই ধাপ এগিয়ে উঠে এসেছেন ৩২তম স্থানে। আর লিটন দাস ১০ ধাপ এগিয়ে এখন ৮২তম অবস্থানে।
পাকিস্তানের অধিনায়ক সালমান আলি আগা শেষ ম্যাচে ১০৬ রানের লড়াকু ইনিংস খেলেও দলকে জেতাতে পারেননি। তবে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে ৯ ধাপ এগিয়ে ক্যারিয়ার সেরা নবম স্থানে উঠে এসেছেন তিনি। এই অবস্থানে ভারতের লোকেশ রাহুলের সঙ্গে যৌথভাবে আছেন তিনি। অলরাউন্ডারদের র্যাঙ্কিংয়েও সুখবর আছে বাংলাদেশের জন্য। শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন আফগানিস্তানের আজমাতউল্লাহ ওমারজাই, আর দুই ধাপ এগিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
সব মিলিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয় শুধু ট্রফিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি বরং বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত সাফল্যেও ছাপ ফেলেছে। র্যাঙ্কিংয়ের এই অগ্রগতি নিঃসন্দেহে দলকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে সামনে আসন্ন সিরিজগুলো ঘিরে।
সময়ের আলো/আআ