গাজার গণহত্যার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) দায়ের করা 'গণহত্যা মামলায়' আর ইসরায়েলের পক্ষ নেবে না জার্মানি। ২০২৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা যখন প্রথম মামলাটি করেছিল, তখন জার্মানি ইসরায়েলকে জোরালো সমর্থন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে এখন সেই অবস্থান থেকে সরে আসছে ইউরোপের দেশটি।
জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, হেগের এই মামলায় ইসরায়েলের পক্ষে আর কোনো হস্তক্ষেপ করবে না বার্লিন। অথচ ২০২৪ সালের জানুয়ারিতেই জার্মানি ঘোষণা দিয়েছিল, তারা ইসরায়েলকে সমর্থন দেবে এবং দক্ষিণ আফ্রিকার তোলা অভিযোগকে 'ভিত্তিহীন' বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল। জার্মানির এই সিদ্ধান্ত দেশটির প্রকাশ্য অবস্থানে একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জার্মানির এই সিদ্ধান্তের পেছনে আইসিজেতে তাদের নিজস্ব কিছু আইনি জটিলতা কাজ করছে। বার্লিন বর্তমানে নিকারাগুয়ার দায়ের করা একটি আলাদা মামলা মোকাবিলা করছে। নিকারাগুয়া অভিযোগ করেছে, গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যায় রাজনৈতিক, সামরিক ও আর্থিক সহায়তা দিয়ে জার্মানি আন্তর্জাতিক আইন ও গণহত্যা কনভেনশন লঙ্ঘন করেছে।
নিকারাগুয়ার ওই মামলার কারণে ইসরায়েলে জার্মানির অস্ত্র রপ্তানি এবং জাতিসংঘের ত্রাণ সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ-তে তহবিল বন্ধের সিদ্ধান্তের বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে। যদিও আইসিজে ২০২৪ সালে বার্লিনের বিরুদ্ধে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন নাকচ করে দিয়েছিল। তবে আদালত নিকারাগুয়ার মামলাটি বাতিলের অনুরোধও রাখেনি। এর ফলে জার্মানিকে এখন আদালতের সামনে নিজেদের কর্মকাণ্ডের সপক্ষে লড়াই চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
বার্লিন অবশ্য এখনো বলেনি যে তারা দক্ষিণ আফ্রিকার তোলা গণহত্যার অভিযোগ মেনে নিয়েছে। এমনকি নিকারাগুয়ার করা মামলায় নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোও জার্মান কর্মকর্তারা অস্বীকার করে আসছেন।
তবে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা লড়াইয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আর অংশ না নেওয়ার এই সিদ্ধান্তকে মূলত নিজেদের আইনি ও রাজনৈতিক ঝুঁকি কমানোর একটি চেষ্টা হিসেবে দেখছে জার্মানি। গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যা এবং এতে জার্মানির পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতা নিয়ে যখন বিশ্বজুড়ে চাপ বাড়ছে, তখন বার্লিন এমন কৌশল নিল।
এদিকে জার্মানি যখন পিছিয়ে আসছে, তখন আরও অনেক দেশ এই মামলায় পক্ষ নিতে এগিয়ে আসছে। গত ১১ মার্চ নেদারল্যান্ডস ও আইসল্যান্ড এই আইনি প্রক্রিয়ায় যোগ দিয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার করা এই মামলায় সমর্থন জানানো দেশগুলোর তালিকা এখন ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে।
সূত্র : মিডল ইস্ট মনিটর
সময়ের আলো/আআ