বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলায় রশি দিয়ে গলা ও হাত বাঁধা অবস্থায় মো. তৈয়ব বাহাদুর (৪৫) নামে এক ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (২২ মার্চ) সকালে উপজেলার উদয়কাঠী ইউনিয়নের একটি জলাশয় থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত তৈয়ব বাহাদুর উপজেলার ইলুহার ইউনিয়নের মলুহার গ্রামের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি উদয়কাঠী বাজারের বিকাশ ও মুদি ব্যবসা করেন।
জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো ঈদের দিন শনিবার (২১ মার্চ) নিজ দোকানে ব্যাবসায়িক কাজে ব্যস্ত ছিলেন নিহত তৈয়ব বাহাদুর। রাত ১১টার পর দোকান বন্ধ করে সারাদিনের লেনদেনের টাকা সঙ্গে নিয়ে তিনি বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। তবে রাত গভীর হলেও বাড়িতে না পৌঁছালে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
একপর্যায়ে রাত সাড়ে ৩টার দিকে বাড়ি যাওয়ার পথে পার্শ্ববর্তী একটি জমিতে জমে থাকা পানিতে (জলাশয়) রশি দিয়ে গলা ও পিছন দিকে দুহাত বাঁধা অবস্থায় তৈয়ব বাহাদুরের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
এলাকাবাসীর ধারণা, দোকানের মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে পূর্বপরিকল্পিতভাবে পরিচিত একটি চক্র তৈয়ব বাহাদুরের ওপর হামলা চালিয়ে টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং চিনে ফেলায় তাকে হত্যা করে লাশ ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
উদয়কাঠী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মামুন উর- রশিদ স্বপন জানান, তৈয়বের মরদেহের পাশে তার ব্যবসায়িক চারটি মোবাইল ফোন ও একটি ব্যাগে ত্রিশ হাজার চার শতাধিক টাকা পাওয়া গেলেও বেশী টাকা রাখার ব্যাগটি পাওয়া যায়নি। আমরা তার মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়।
এ বিষয়ে বানারীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মজিবুর রহমান জানান, বানারীপাড়া-উজিরপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) সৌমেন্দ্র কুমার বাইন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তৈয়ব বাহাদুরের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।
এদিকে, এমন ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মাঝে বিরাজ করছে অজানা আতঙ্ক।
এফআর