কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহতের ঘটনায় বরখাস্ত হওয়া সেই দুই গেটম্যানকে আসামি করে মামলা হয়েছে। সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে থানায় এ মামলা করেন শেফালী আক্তার (৫৮) নামের এক নারী।
মামলায় রেলক্রসিংয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত গেটম্যান মো. হেলাল ও মেহেদী হাসানকে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া রেলক্রসিংয়ের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অজ্ঞাতনামা হিসেবে আসামি করা হয়েছে।
এর আগে, গতকাল রোববার দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এই দুজনকে বরখাস্ত করেছিল রেলওয়ে বিভাগ।
জানা গেছে, মামলায় বাদী শেফালী আক্তার নিজেকে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার রায়পুর গ্রামের সোহেল রানার (৪৬) খালা বলে উল্লেখ করেছেন। সোহেল রানা দুর্ঘটনায় নিহত ১২ জনের একজন। শেফালী আক্তার লাকসাম উপজেলার ফতেহপুর গ্রামের প্রয়াত আক্তারুজ্জামানের স্ত্রী।
মামলার প্রধান আসামি মো. হেলাল (৪১) কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কোদালিয়া গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে। তিনি পদুয়া বাজারের রেলওয়ে ওভারপাসের নিচে থাকা রেলগেট নম্বর ই/৪৭-এর অস্থায়ী গেটম্যান হিসেবে কর্মরত।
অন্য আসামি মেহেদী হাসান (৩৩) বুড়িচং উপজেলার বাহিরীপাড়া এলাকার আবদুল কাদেরের ছেলে। তিনি ওই লেভেল ক্রসিংয়ে ওয়েম্যান হিসেবে কর্মরত।
এদিকে, দুর্ঘটনার পর থেকে দুজনই আত্মগোপনে আছেন।
বাদী শেফালী আক্তার এজাহারে উল্লেখ করেন, নিহত সোহেল রানা তার বোনের ছেলে। তিনি মালয়েশিয়া প্রবাসী। গত ১৫ রমজানে প্রবাস থেকে বাংলাদেশে ছুটিতে আসেন। ঈদের দিন সন্ধ্যা ৬টা ৪২ মিনিটের দিকে ঝিনাইদহের খালিশপুর বাস কাউন্টার থেকে মামুন স্পেশাল পরিবহণের বাসে করে সোহেল রানা ও তার স্ত্রী সন্তান লাকসামে বেড়াতে রওনা দেন।
গতকাল রোববার ভোররাত ৩টার দিকে বাসটি পদুয়া বাজার রেলক্রসিংয়ে আসে। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ঢাকা মেইল ওয়ান আপ ট্রেনের ইঞ্জিনের সঙ্গে ধাক্কা লাগার কারণে বাসটি ইঞ্জিনের সঙ্গে আটকে যায়। এ সময় ইঞ্জিনের মুখে করে বাসটি টেনে-হিঁচড়ে প্রায় এক কিলোমিটার নিয়ে যায় ট্রেনটি।
লাকসাম রেলওয়ে থানার ওসি জসীম উদ্দিন খন্দকার বলেন, পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে ১২ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। আমরা এজাহার পেয়েছি। এতে ওই লেভেল ক্রসিংয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী হেলাল ও মেহেদী হাসানকে আসামি করা হয়েছে। তাদেরকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
প্রসঙ্গত, শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাত ৩টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় মামুন পরিবহন নামের একটি যাত্রীবাহী বাসকে ধাক্কা দেয় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার দিকে যাওয়া মেইল ট্রেন। এসময় ৭ জন পুরুষ, ২ নারী, ৩ শিশুর মৃত্যু হয়। আহত হন অন্তত ১৫ জন।
এ ঘটনায় রেলক্রসিংয়ে দায়িত্বহীনতায় অভিযোগে দুই গেটম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। গঠন করা হয় তিনটি তদন্ত কমিটি।
এফআর