মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত ১৫ দফার শান্তি পরিকল্পনা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। পাকিস্তানের মাধ্যমে তেহরানের কাছে পাঠানো এই প্রস্তাব নিয়ে সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যেই দুই দেশের অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রস্তাবকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে জানিয়ে দিয়েছে তেহরান। তারা বলেছে, এই পরিকল্পনা একপাক্ষিক এবং ইরানের সার্বভৌমত্বের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। একই সঙ্গে ইরান নিজেদের শর্তে যেকোনো সম্ভাব্য সমঝোতার কথা জানিয়েছে।
ইরানের প্রস্তাবে সবচেয়ে গুরুত্ব পেয়েছে হরমুজ প্রণালি-এর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহন এই পথ দিয়ে হওয়ায় এর কৌশলগত গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। ইরান চায়, ভবিষ্যতে এই পথে চলাচলকারী জাহাজ থেকে তারা শুল্ক আদায় করতে পারবে, যেমনটি সুয়েজ খাল-এর ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।
এছাড়া তেহরান দাবি করেছে—উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা সব মার্কিন সামরিক ঘাঁটি প্রত্যাহার, ইরানের ওপর আরোপিত সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং সাম্প্রতিক সংঘাতে ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে। পাশাপাশি, লেবাননে হিজবুল্লাহ-এর বিরুদ্ধে ইসরাইলের সামরিক অভিযান বন্ধের দাবিও জানিয়েছে তারা।
ইরান আরও স্পষ্ট করেছে যে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি কোনোভাবেই সীমিত করা যাবে না এবং এ বিষয়ে কোনো ধরনের আলোচনায় তারা রাজি নয়।
অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের ১৫ দফা প্রস্তাবে ইরানের জন্য কঠোর শর্ত রাখা হয়। এর মধ্যে ছিল—পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিষিদ্ধ করা, বিদ্যমান মজুদ হস্তান্তর এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা-কে পূর্ণ তদারকির সুযোগ দেওয়া। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব কমাতে ‘প্রক্সি’ গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করার কথাও বলা হয়।
বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচিতে সহায়তার প্রস্তাব দেয়।
তবে দুই পক্ষের অবস্থানের মধ্যে বড় ধরনের অমিল থাকায়, এই মুহূর্তে কোনো সমঝোতার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও সরাসরি আলোচনা এখনও শুরু হয়নি।
/ইউএমএইচ