হরমুজ প্রণালি কি আমেরিকার জন্য ব্রিটিশদের পরিণতি বয়ে আনবে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

১৯৫৬ সালের সুয়েজ সংকট যেভাবে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের পতনের ঘণ্টা বাজিয়েছিল, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের ‘হরমুজ প্রণালি’ কি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য

2026-03-28T16:24:52+00:00
2026-03-28T16:24:52+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬,
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
আন্তর্জাতিক
হরমুজ প্রণালি কি আমেরিকার জন্য ব্রিটিশদের পরিণতি বয়ে আনবে?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ৪:২৪ পিএম   (ভিজিট : ৩৮)
সংগৃহীত ছবি
১৯৫৬ সালের সুয়েজ সংকট যেভাবে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের পতনের ঘণ্টা বাজিয়েছিল, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের ‘হরমুজ প্রণালি’ কি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সেই একই পরিণতি বয়ে আনবে? 

মিডল ইস্ট আইয়ের এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য।

বর্তমান প্রেক্ষাপট ও হরমুজ সংকট 

বিশ্লেষকরা বলছেন, ৭০ বছর পর আজ আমেরিকা ঠিক একই ধরণের পরিস্থিতির মুখোমুখি। ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালির কৌশলগত গুরুত্ব ওয়াশিংটনকে সংকটে ফেলেছে। 

বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে যায়। ইরান যদি এই পথ বন্ধ করে দেয় বা বিঘ্ন ঘটায়, তবে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে ধস নামবে, তা সামলানোর সক্ষমতা বর্তমান আমেরিকার নেই বললেই চলে।

ব্রিটিশ আধিপত্যের অবসান 

১৯৫৬ সালে মিশরের প্রেসিডেন্ট জামাল আবদেল নাসের সুয়েজ খাল জাতীয়করণ করলে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও ইসরাইল সামরিক অভিযান চালায়। যুদ্ধে তারা জিতলেও রাজনৈতিকভাবে পরাজিত হয়। 

তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং বিশেষ করে আমেরিকার চাপে ব্রিটেনকে পিছু হটতে হয়। ওই ঘটনা ব্রিটিশ পাউন্ডের মান কমিয়ে দেয় এবং বিশ্ব রাজনীতিতে লন্ডনের একক আধিপত্যের অবসান ঘটায়। এরপর থেকেই আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান নিয়ন্ত্রক হিসেবে আবির্ভূত হয়।


বড় ঋণ 

১৯৫৬ সালে ব্রিটেনের যা ঋণের বোঝা ছিল, আজ আমেরিকার তার চেয়েও বেশি। প্রায় ৩৯ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণের চাপে জর্জরিত ওয়াশিংটনের পক্ষে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধ চালানো প্রায় অসম্ভব। 

সামরিক অতি-বিস্তার 

ইউক্রেন থেকে দক্ষিণ চীন সাগর—সবখানেই এখন মার্কিন সামরিক উপস্থিতি প্রয়োজন। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে আগের মতো সর্বশক্তি নিয়োগ করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। 

আঞ্চলিক শক্তির উত্থান 

১৯৫৬ সালের মিশরের তুলনায় বর্তমানের ইরান সামরিকভাবে অনেক বেশি শক্তিশালী। তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তি এবং আঞ্চলিক মিত্রদের (প্রক্সি নেটওয়ার্ক) কারণে আমেরিকা চাইলেই সরাসরি যুদ্ধে জয় নিশ্চিত করতে পারছে না।

ইসরাইল ও ফিলিস্তিন ইস্যু 

মিডলইস্ট আইয়ের বিশ্লেষণে দাবি করা হয়, ইসরাইলের সামরিক আধিপত্য মূলত মার্কিন সমর্থনের ওপর টিকে আছে। যদি হরমুজ সংকটের কারণে আমেরিকার প্রভাব কমে যায়, তবে ইসরাইলের নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়বে। 

সাম্রাজ্যবাদী শক্তির পিছুটান শুরু হলে ইসরাইলের মতো রাষ্ট্রগুলো দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে হিমশিম খাবে, যা ফিলিস্তিন প্রশ্নে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।

ইতিহাস সাক্ষী দেয় যে, কোনো সাম্রাজ্য একদিনে ধ্বংস হয় না। যখন কোনো শক্তির সামরিক ব্যয় তার রাজনৈতিক কৌশলের চেয়ে বেড়ে যায় এবং অর্থনৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে, তখনই পতনের শুরু হয়। 

সুয়েজ খাল যেমন ব্রিটিশদের দম্ভ চূর্ণ করেছিল, হরমুজ প্রণালিও হয়তো মার্কিন একক আধিপত্যের অবসানের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। কোনো নতুন শক্তির উত্থান নয়, বরং এই অঞ্চল এখন বহুমুখী শক্তির (Multipolar world) দিকে ধাবিত হচ্ছে।

সময়ের আলো/এআর



  বিষয়:   হরমুজ প্রণালি  আমেরিকা  ব্রিটিশ 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: