ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকার বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে আলোচনায় বসার আগে সরকারকে শর্ত দিয়েছে আন্দোলনকারীরা।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আলোচনার জন্য আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধি দল পাঠাতে হবে। কিন্তু আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ বলেছেন, সরকার যদি সত্যিই আলোচনা করতে চায়, তাহলে তাদেরই আন্দোলনস্থলে এসে কথা বলতে হবে।
বুধবার (২২ জুলাই) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অভিজিৎ দীপ বলেন, সরকার আলোচনায় আগ্রহী হলে তাদের যন্তর মন্তরে আসতে হবে। আমাদের শর্তগুলো মেনে নিয়েই আলোচনা শুরু করতে হবে। সরকারের অহংকার ভাঙা দরকার।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, আন্দোলনকারীরা আলোচনার জন্য এগিয়ে এলে সরকার প্রস্তুত রয়েছে।
এরপর আন্দোলনকারীদের মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা কিছুটা নমনীয় অবস্থানের ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, নিরপেক্ষ কোনো স্থান অথবা দিল্লির যন্তর মন্তরে আলোচনা হতে পারে। তবে আন্দোলনকারীরা তাদের মূল দাবি থেকে সরে আসবেন না।
তাদের প্রধান দাবি হলো— শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
অন্যদিকে, সরকারের অবস্থানের সমালোচনা করে অভিজিৎ দীপ অভিযোগ করেন, এর আগে তাদের প্রতিনিধিদের আলোচনার জন্য ডাকা হলেও পরে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। তিনি দাবি করেন, প্রতিনিধিদের মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়া হয় এবং তাদের কার্যত গৃহবন্দি করা হয়। একই সময়ে সংসদ অভিমুখে যাওয়া বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশ লাঠিচার্জ করে।
এর আগে, সোমবার সিজেপির দুই প্রতিনিধি ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডার সঙ্গে আলোচনার জন্য গিয়েছিলেন।
তবে এখন পর্যন্ত আন্দোলনকারীরা বলছেন, সরকারকে আগে তাদের দাবি ও শর্ত মেনে নিতে হবে, এরপরই আলোচনার পথ খুলবে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ