বিদ্যুৎ নেই বললেই চলে, সৃজনশীল পথে কিউবানরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

একদিকে জ্বালানি সংকট, অন্যদিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ নেই। ফ্রিজ চলছে না, মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়ার উপায় নেই, গরমে ঘরে

2026-09-06T14:20:49+00:00
2026-09-06T14:24:01+00:00
 
  রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২২ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
বিদ্যুৎ নেই বললেই চলে, সৃজনশীল পথে কিউবানরা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:২০ পিএম  আপডেট: ০৬.০৯.২০২৬ ২:২৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
একদিকে জ্বালানি সংকট, অন্যদিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ নেই। ফ্রিজ চলছে না, মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়ার উপায় নেই, গরমে ঘরে থাকা কঠিন। এমনকি রান্না ও যাতায়াতেও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। ক্যারিবীয় দ্বীপদেশ কিউবার মানুষের দৈনন্দিন জীবন এখন অনেকটাই নির্ভর করছে— কম সম্পদে কীভাবে নতুন উপায় বের করা যায়, তার ওপর।

বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও জ্বালানি সংকট ক্রমেই নিত্যদিনের বাস্তবতায় পরিণত হওয়ায় কিউবার মানুষ নানা ধরনের সৃজনশীল সমাধান বের করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট নির্মাতারাও হয়ে উঠেছেন এই নতুন বাস্তবতার পথপ্রদর্শক। মোবাইলের চার্জ কীভাবে দীর্ঘক্ষণ ধরে রাখা যায়, ফ্রিজ ছাড়া খাবার কীভাবে সংরক্ষণ করা যায় কিংবা বিদ্যুৎ না থাকলে কীভাবে ঘর ঠান্ডা রাখা যায়— এসব নিয়েই তৈরি হচ্ছে নানা পরামর্শ ও টিউটোরিয়াল।

Advertisement
এমনই একজন দায়ান মাররেও। হাভানার কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটারবিজ্ঞানের তৃতীয় বর্ষের এই শিক্ষার্থী, এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিউবানদের কাছে পরিচিত মুখ। তার ভিডিওতে উঠে আসে বিদ্যুৎহীন জীবনে টিকে থাকার নানা কৌশল।

একটি ভিডিওতে মোবাইল নেটওয়ার্কের দুর্বল সংকেত ধরতে ঘরে বসে অ্যান্টেনা তৈরির পদ্ধতি দেখিয়েছিলেন মাররেও। ভিডিওটি প্রায় ৮ লাখ বার দেখা হয়েছে।

আগে কখনো কনটেন্ট নির্মাতা হওয়ার কথা ভাবেননি তিনি। এখন নিজের বাড়িতে বসেই বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে ভিডিও তৈরি করেন। এর মধ্যে রয়েছে এমন একটি রিচার্জেবল ফ্যান, যা একই সঙ্গে বাতাস দেওয়ার পাশাপাশি আলোও দেয়। তবে কিউবার মানুষের এই সৃজনশীলতা শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।

এছাড়া কিউবার অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র ভিনালেস। শহরের রাস্তাঘাট পরিষ্কার, পর্যটকদের জন্য থাকার জায়গার বিজ্ঞাপনও চোখে পড়ে। কিন্তু পর্যটক নেই বললেই চলে। সরকারি হিসাবে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত কিউবায় পর্যটকের সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬২ শতাংশ কমেছে।

৫৭ বছর বয়সী ওসিরিস হার্নান্দেজ ভিনালেসে পর্যটক গাইড হিসেবে কাজ করছেন জীবনের অর্ধেকেরও বেশি সময় ধরে। শহরের অন্যতম আকর্ষণ ইন্ডিয়ান কেভে নৌকা চালান তিনি। পর্যটক কমে গেলেও কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

কেউ একজন পর্যটক আসার খবর পেলেই হাসি ফুটে ওঠে হার্নান্দেজের মুখে। নিজের বাড়ির কয়েকটি কক্ষ পর্যটকদের থাকার জন্য ছেড়ে দিয়েছেন। বিদ্যুৎ না থাকলেও কয়লার চুলায় খাবার রান্না করেন, হাতে কফি গুঁড়ো করেন। অতিথিদের দেন আলো ও বাতাস দেওয়ার সুবিধাযুক্ত রিচার্জেবল ফ্যান।

বিদ্যুতের ঘাটতি সামলাতে বাড়িতে সৌর প্যানেল থেকে পাওয়া বিদ্যুৎ সংরক্ষণ ও ব্যবহারের ব্যবস্থা করেছেন তিনি। এতে অন্তত একটি ফ্রিজার চালু রাখা সম্ভব হয়।

ভিনালেসের উপকণ্ঠে এল অলিভো নামের একটি কৃষিখামারেও চলছে টিকে থাকার আরেক লড়াই। ওসনেল কোরালেস ও তার পরিবার দুধজাত পণ্য উৎপাদনের জন্য সৌর প্যানেল ও ব্যাটারি ব্যবহার করছেন। খামারে শিল্পকারখানার উপযোগী জেনারেটর থাকলেও জ্বালানি নেই, কিংবা থাকলেও প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। তাই দুধ পাস্তুরাইজ করতে তারা ব্যবহার করছেন কয়লার আগুন। এরপর সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে চালানো ব্যবস্থায় দুধ ঠান্ডা করা হচ্ছে। এভাবেই তৈরি হচ্ছে দই ও পনির। খামারে ভূমধ্যসাগরীয় খাবারের একটি রেস্তোরাঁও রয়েছে। কিন্তু পর্যটক না থাকায় সেখানে ক্রেতা নেই। তবু খামারের কাজ থেমে নেই। গরু দোহন করতেই হবে, উৎপাদনও চালিয়ে যেতে হবে।

উৎপাদিত পনির ও দই ভিনালেসের নিজস্ব দোকান এবং হাভানার ক্রেতাদের কাছে সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে পর্যটন কমে যাওয়ায় চাহিদা ব্যাপকভাবে কমেছে।


কিউবার জ্বালানি সংকটের একটি অদ্ভুত প্রভাবও দেখা যাচ্ছে রাজধানী হাভানায়। জ্বালানি না থাকায় গাড়ির সংখ্যা কমে যাওয়ায় শহরের যানজটও অনেকটা অতীতের বিষয় হয়ে উঠেছে।তবে বাসের সংকট পূরণে রাস্তায় বাড়ছে ব্যক্তিমালিকানাধীন সৌরবিদ্যুৎচালিত বৈদ্যুতিক তিন চাকার যান। প্রায় ১৮ লাখ মানুষের শহর হাভানায় এগুলো এখন গণপরিবহনের অন্যতম ভরসা।

আগুস্তো এমনই একটি আধুনিক তিন চাকার যান চালান। এতে ছোট একটি জ্বালানি ইঞ্জিনের পাশাপাশি রয়েছে তিনটি রিচার্জেবল ব্যাটারি। বিদ্যুৎ থাকলে এগুলো গ্রিড থেকে চার্জ দেওয়া যায়। আবার গাড়ির ছাদে থাকা সৌর প্যানেল দিয়েও ব্যাটারি চার্জ করা সম্ভব। বছরের পর বছর ট্যাক্সি চালানোর পর এখন প্রতিদিন প্রায় ৯ হাজার কিউবান পেসো বা ১৫ ডলারে এই যানটি ভাড়া নেন আগুস্তো। যাত্রী থাকুক বা না থাকুক, ভাড়ার পরিমাণ একই। একসঙ্গে ছয়জন পর্যন্ত যাত্রী বহন করতে পারে যানটি। শহরকে বিভিন্ন রুটে ভাগ করে চালকেরা ব্যাটারির সক্ষমতা ও চার্জের পরিমাণ বিবেচনা করে চলাচল করেন।

জ্বালানি নেই, বিদ্যুৎও নেই— তারপরও জীবন থেমে নেই কিউবায়। কেউ সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে ফ্রিজ চালাচ্ছেন, কেউ কয়লার আগুনে দুধ পাস্তুরাইজ করছেন, কেউ আবার সূর্যের আলোয় চার্জ দিয়ে যাত্রী পরিবহন করছেন।


সময়ের আলো/ কেএইচ
  বিষয়:   সময়ের আলো  কিউবা 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: