নিখোঁজ ছেলের সন্ধান না পেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন ভারতের পাঞ্জাবের কাপুরথালার এক পরিবার। এর কয়েক দিন পর একটি পোড়া মরদেহকে ছেলের লাশ হিসেবে শনাক্ত করে শেষকৃত্যও সম্পন্ন করেন তারা। কিন্তু ১৫ দিন পর কারাগার থেকে ফোন করে জানানো হলো—ছেলে মারা যাননি, তিনি জীবিত আছেন এবং কারাগারে বন্দী।
অবিশ্বাস্য এই ঘটনা ঘটেছে পাঞ্জাবের কাপুরথালায়। পরিবারের নিখোঁজ সদস্যের নাম রবি কুমার।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ আগস্ট বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফেরেননি রবি। তার বাবা ও ভাই নিজেদের মতো করে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।
পরে ১১ আগস্ট কাপুরথালা সিটি থানায় নিখোঁজের অভিযোগ করেন পরিবারের সদস্যরা।
এরই মধ্যে পুলিশ পরিবারকে জানায়, এক তরুণের পোড়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ মরদেহটির কয়েকটি ছবি পরিবারকে দেখায়। কয়েক দিন পর পরিবারের সদস্য ও অন্য কয়েকজন ব্যক্তি ছবিটি দেখে মরদেহটি রবি কুমারের বলে শনাক্ত করেন।
ছেলে মারা গেছেন—এমনটা নিশ্চিত ধরে নিয়ে ১৩ আগস্ট তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করে পরিবার।
কিন্তু ঘটনার মোড় ঘুরে যায় ২ সেপ্টেম্বর। ওই দিন কাপুরথালা কেন্দ্রীয় কারাগারের এক কর্মী পরিবারকে ফোন করে জানান, রবি কুমার নামে একজন ওই কারাগারে বন্দী রয়েছেন।
খবরটি শুনে হতবাক হয়ে যায় পরিবার। পরদিন তারা কারাগারে গিয়ে দেখতে পান, যাকে মৃত ভেবে ১৫ দিন আগে সৎকার করেছিলেন, সেই রবি কুমারই জীবিত আছেন।
জানা গেছে, প্রায় এক মাস আগে একটি সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি-সংক্রান্ত মামলায় জলন্ধর পুলিশ রবিকে গ্রেপ্তার করেছিল। পরে তাকে কাপুরথালা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।
কারাগারে ছেলেকে জীবিত দেখে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শোকের বদলে নেমে আসে আনন্দ। তবে পোড়া মরদেহটি কার ছিল এবং কীভাবে সেটিকে রবি কুমার হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছিল, তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে।
সময়ের আলো/কেএইচ