নেপালে ভয়াবহ বন্যার ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে এক চীনা জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মী ও এক নেপালি নারীকে। এতে নিখোঁজ আরও কয়েক হাজার মানুষের জীবিত উদ্ধারের আশা জোরালো হয়েছে।
শনিবার দেশটির রাসুয়া জেলার একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের বন্যাকবলিত সুড়ঙ্গ থেকে চীনা নাগরিক লু হাইতাওকে উদ্ধার করেন নেপালি সেনাবাহিনী ও দক্ষিণ কোরিয়ার দুর্যোগ মোকাবিলা দলের সদস্যরা। রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে উত্তরের পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত ওই সুড়ঙ্গের প্রায় ২২৫ মিটার ভেতরে আটকা পড়েছিলেন তিনি।
উদ্ধারের পর লু হাইতাওকে হেলিকপ্টারে করে কাঠমান্ডুর একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল থাকলেও শরীরের তাপমাত্রা কিছুটা কমে গিয়েছিল।
চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে লু জানান, সুড়ঙ্গের ভেতরে উদ্ধারকারীদের টর্চের আলো দেখতে পেলেই তিনি চিৎকার করে নিজের অবস্থান জানানোর চেষ্টা করতেন। তবে কয়েকবার তার ডাক উদ্ধারকারীদের কানে পৌঁছায়নি। শেষ পর্যন্ত আলো তার কাছে পৌঁছালে তিনি জীবিত উদ্ধার হন।
একই দিনে পাশের নুয়াকোট জেলা থেকে ৬৪ বছর বয়সী চান্দিকা কুমারী শ্রেষ্ঠাকেও তার ধসে পড়া বাড়ির ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। কাদায় ঢাকা অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে পানি পান করানো হয়। পরে চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে কাঠমান্ডুতে নেওয়া হয়।
গত ২৬ আগস্ট হিমালয়ের একটি হিমবাহ ধসে বিপুল পরিমাণ পানি, পাথর ও বরফ নেমে এসে উপত্যকাজুড়ে ভয়াবহ বন্যা ও ধসের সৃষ্টি করে। এতে নদী উপত্যকার বহু শহর ও গ্রাম ভেসে যায়। ধ্বংস হয় সড়ক, বাড়িঘর ও স্কুল।
এই দুই উদ্ধারের ঘটনা কয়েক দিনের মধ্যে তৃতীয় ও চতুর্থ জীবিত উদ্ধারের ঘটনা। এর আগে কাছের একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে দুই নেপালি শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিল।
নেপালে ভয়াবহ এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৩৩১ জন নিহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৫ হাজার মানুষ। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজদের মধ্যে ৫৮৯ জন বিদেশি নাগরিক।
সীমান্তের ওপারে চীনের স্বায়ত্তশাসিত তিব্বত অঞ্চলেও বন্যায় অন্তত ৩১ জন নিহত এবং ৫৩১ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
শুধু জলবিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর নির্মাণস্থলেই প্রায় ৯০০ কর্মীর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের মধ্যে প্রায় ৫০০ জন এখনো বিভিন্ন সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উদ্ধার অভিযানে নেপালের সঙ্গে ভারত, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের দল যুক্ত হয়েছে। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়া থেকে ১৫ সদস্যের একটি ড্রোন দলও উদ্ধার অভিযানে অংশ নিচ্ছে।
নেপাল সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এ সপ্তাহে ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত উদ্ধার হওয়া এক শ্রমিক জানিয়েছেন, ভেতরে আরও কয়েকজন শ্রমিক জীবিত রয়েছেন। এরপর ওই এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে।
নেপালের তথ্য ও যোগাযোগমন্ত্রী বিক্রম তিমসিনাও আরও মানুষকে জীবিত উদ্ধারের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষ আরও মানুষকে জীবিত উদ্ধারের অপেক্ষায় রয়েছে।
সময়ের আলো/কেএইচ