আফ্রিকার দেশগুলোর দীর্ঘদিনের দাবির পর বিশ্বের মানচিত্রে দেশ ও মহাদেশগুলোর প্রকৃত আকার আরও যথাযথভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ।
শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) সাধারণ পরিষদে এ-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব বিপুল সমর্থনে অনুমোদিত হয়েছে।
আফ্রিকান ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলো ও বাহামাসের পক্ষ থেকে উত্থাপিত ‘মানচিত্র সংশোধন’ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে ১৬৪টি দেশ। ছয়টি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল এবং একমাত্র যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট দিয়েছে।
প্রস্তাবটির লক্ষ্য বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল, বিশেষ করে আফ্রিকার তুলনামূলক প্রকৃত আকারের আরও ন্যায্য উপস্থাপন নিশ্চিত করা।
জাতিসংঘের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, প্রচলিত বিশ্ব মানচিত্রের বিকৃতির কারণে মানুষের সম্মিলিত ধারণায় আফ্রিকার একটি ‘প্রতীকী অবমূল্যায়ন’ তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে বিশ্বের বহু মানচিত্রে ১৫৬৯ সালে ইউরোপীয় মানচিত্রকার জেরার্ডাস মার্কেটর তৈরি করা মার্কেটর প্রক্ষেপণ ব্যবহার করা হয়। নৌযাত্রায় দিকনির্ণয়ের জন্য এটি কার্যকর হলেও বিশ্ব মানচিত্র হিসেবে এতে আকারের বড় ধরনের বিকৃতি দেখা যায়।
মার্কেটর প্রক্ষেপণে নিরক্ষরেখা থেকে যত দূরে যাওয়া যায়, স্থলভাগ তত বড় করে দেখানো হয়। ফলে গ্রিনল্যান্ডকে দক্ষিণ আমেরিকার চেয়েও বড় এবং প্রায় আফ্রিকার সমান দেখায়। বাস্তবে গ্রিনল্যান্ডের আয়তন প্রায় গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের সমান, আর আফ্রিকা গ্রিনল্যান্ডের তুলনায় প্রায় ১৪ গুণ বড়।
এই মানচিত্রের সমালোচকেরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, এর কারণে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকাসহ পশ্চিমা অঞ্চলগুলোকে তুলনামূলক বড় ও কেন্দ্রে দেখা যায়। এতে ইউরোপকেন্দ্রিক শ্রেষ্ঠত্বের ধারণা পরোক্ষভাবে আরও শক্তিশালী হতে পারে বলেও তাদের মত।
জাতিসংঘের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, মানচিত্রের এ ধরনের বিকৃতি আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার দৃশ্যমান আকারকে কমিয়ে দেখাতে পারে এবং বিশ্ব সম্পর্কে ভারসাম্যহীন ধারণা তৈরি করতে পারে।
প্রস্তাবটিতে আরও বলা হয়েছে, এ ধরনের বিকৃতি এসব অঞ্চলের আর্থসামাজিক বাস্তবতা, অবকাঠামোগত প্রয়োজন, উন্নয়নের সম্ভাবনা ও সমৃদ্ধির পরিসর সম্পর্কে মানুষের ধারণাকেও সংকুচিত করতে পারে। পাশাপাশি এর মাধ্যমে পরিবেশ, ভূরাজনীতি ও নিরাপত্তা বিষয়ে নানা ধরনের পক্ষপাতও তৈরি হতে পারে।
সময়ের আলো/কেএইচও