আগ্নেয়গিরি আনাক ক্রাকাতাউয়ের অগ্ন্যুৎপাত থেকে ছড়িয়ে পড়া ছাইয়ের কারণে ইন্দোনেশিয়ার প্রধান বিমানবন্দর সোকার্নো-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে জাকার্তার কাছে অবস্থিত বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, আগ্নেয়গিরিটির অগ্ন্যুৎপাতের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১টা পর্যন্ত ফ্লাইট কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। বিমানবন্দরটি আগ্নেয়গিরি থেকে ১৫০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে।
আবহাওয়া সংস্থা বিএমকেজি জানিয়েছে, শুক্রবার গভীর রাত থেকে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হওয়া আনাক ক্রাকাতাউ থেকে লাভা উদ্গিরণের পাশাপাশি বিকট শব্দও শোনা যাচ্ছে। এসব শব্দ আগ্নেয়গিরি থেকে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত শোনা গেছে। রোববার আরও দুটি অগ্ন্যুৎপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
জাভা অংশে আগ্নেয়গিরির ছাই প্রায় ৬ হাজার মিটার এবং সুমাত্রা ও জাভার বানতেন প্রদেশের কিছু এলাকায় ছাইয়ের স্তম্ভ ১৫ হাজার মিটার উচ্চতা পর্যন্ত উঠেছে বলে জানিয়েছে বিএমকেজি।
এর আগে বিমানবন্দরটির ফ্লাইট চলাচল স্থানীয় সময় ভোর সাড়ে ৫টা পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এতে ৩৩টি ফ্লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে ১৬টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল এবং সাতটি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়।
ইন্দোনেশিয়ার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের মহাপরিচালক লুকমান এফ লাইসা জানান, বিমানবন্দরে আগ্নেয়গিরির ছাইয়ের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পর ফ্লাইট স্থগিতের সময় বাড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে যাত্রীদের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
আগ্নেয়গিরির ছাইয়ের কারণে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শনিবার জাকার্তাগামী ও জাকার্তা থেকে ছেড়ে যাওয়া দুটি ফ্লাইট বাতিল করা হয় এবং আরও দুটি ফ্লাইট রোববার পর্যন্ত বিলম্বিত করা হয়।
ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, অগ্ন্যুৎপাতের কারণে তাৎক্ষণিক সুনামির কোনো ঝুঁকি নেই।
আনাক ক্রাকাতাউ ১৯২০-এর দশকে সমুদ্র থেকে জেগে ওঠে। এটি ১৮৮৩ সালের ভয়াবহ ক্রাকাতাউ অগ্ন্যুৎপাতের ফলে তৈরি হওয়া গহ্বর থেকে সৃষ্টি হয়। ২০১৮ সালের অগ্ন্যুৎপাতের সময় আগ্নেয়গিরিটির একটি অংশ ধসে পড়ে সুনামি সৃষ্টি হয়েছিল। এতে জাভা ও সুমাত্রা উপকূলে ৪০০-এর বেশি মানুষ নিহত হন।
আগ্নেয়গিরির ছাই উড়োজাহাজের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এটি বিমানের জেট ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত করার পাশাপাশি দৃশ্যমানতাও কমিয়ে দিতে পারে।
সময়ের আলো/কেএইচ