প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অফিস করছেন বিএনপি চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে তিনি বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের শীর্ষনেতাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বৈঠক করেছেন। বিশেষ করে দলটির ছাত্র সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এছাড়া যুবদল স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন সংগঠনের তৃণমূল পর্যায়ের খোঁজ খবর নিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান।
শনিবার (২৯ মার্চ) সন্ধ্যা ৭টার পর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যান তারেক রহমান। সেখানে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিজের চেম্বারে বসে বিভিন্ন সংগঠন কর্মকাণ্ড নিয়ে দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন।
বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমদ, ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মনি উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে থাকা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল এমপি সময়ের আলোকে বলেন, ছাত্রদল নিয়েই বিশেষভাবে আলোচনা হয়েছে। মেবি ওদের নতুন কমিটি দ্রুতই আসবে। এমন ইঙ্গিতই চেয়ারম্যান দিয়েছেন। ছাত্রদলের কমিটি দিয়েই সংগঠন পূর্ণগঠনের কাজ শুরু হবে। এছাড়া অঙ্গ সংগঠনগুলোর জেলা পর্যায়ে কি অবস্থা, সব খোঁজখবর নিয়েছেন।
আরও পড়ুন
তিনি জানান, তারেক রহমান ছাত্রদল ও যুবদলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন। তাদের সংগঠনের বর্তমান হালচাল শুনেছেন। নেতাদের মতামত শুনে কিছু পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দিয়েছেন চেয়ারম্যান তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী বৈঠক দ্রুত শেষ করে দিয়েছেন কারণ রাতে আন্দালিব রহমান পার্থের মেয়ের বিয়ের দাওয়াতে যাবেন বলে।
যদিও পরে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির সময়ের আলোর নিকট দাবি করেন, চেয়ারম্যান তাদের (ছাত্রদল) সঙ্গে শুধুই সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। এর বেশি কিছু আলোচনা হয়নি। সাংগঠনিক কোনো আলাপ উঠেনি। উল্লেখ, ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির মেয়াদ দুই বছরে বেশি অতিবাহিত হয়েছে। এই কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন রাকিবুল ইসলাম রাকিব।
ওই বৈঠকে ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও সংসদের হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান। সময়ের আলোতে তিনি বলেন, চেয়ারম্যান সাহেব দলের নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক ক্লোজ ডোর বৈঠক করেছেন। এগুলো সংগঠনের খুবই কনফিন্ডেশিয়াল বিষয়।
বৈঠকে থাকা আরেক কেন্দ্রীয় নেতা মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল এমপি সময়ের আলোকে বলেন, চেয়ারম্যান প্রথমে দলের এমপিদের নিয়ে বৈঠক করেন। তিনি নতুন এমপিদের কাছে সাংসদে কার্যকর ভূমিকা ও সুন্দর আচরণ প্রত্যাশা করেন। অধিবেশনের শুরুর আগেরদিন আমাদেরকে সংসদ নেতা বেশকিছু সংসদীয় পরামর্শ দেন। পরে সাংগঠনিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পরে এই প্রথম দলীয় কার্যালয়ে আসেন। দেশে ফেরার পর একবার তারেক রহমান একবার পল্টন কার্যালয়ে অফিস করেন। দলের চেয়ারম্যানের আসবেন জেনে শনিবার দুপুর আড়াইটা থেকে নেতা-কর্মী-সমর্থকরা কার্যালয়ের সামনে সমবেত হতে থাকে। বিকাল সাড়ে ৪টার থেকে নয়া পল্টনের সড়কে নেতাকর্মীদের ঢল নামে। নেতা-কর্মীরা ‘তারেক রহমানের আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগত’ শ্লোগানের মুখর করে রাখে পুরো এলাকায়। পুরানা পল্টনের নাইটিঙ্গেল মোড় থেকে নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয় এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সড়কের দুই পাশে এবং সড়ক বিভাজকের ওপরে অবস্থান নিয়েছেন নেতাকর্মীরা। তাদের কারও কারও হাতে দলীয় ব্যানার-ফেস্টুন ও বিভিন্ন স্লোগান-সংবলিত প্ল্যাকার্ড।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী দলীয় কার্যালয় আসবেন বলে সকাল থেকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কার্যালয় এবং এর চারপাশে অবস্থান নেয়। নয়াপল্টন, ফকিরাপুল, ভিআইপি রোড ও কাকরাইল এলাকায় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
সন্ধ্যা ৭টার পর প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পৌঁছায়। এ সময় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী স্লোগানে স্লোগানে তাকে স্বাগত জানান। এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং সাতটার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করেন।
তারেক রহমান দলীয় কার্যালয়ের সামনে পৌঁছানোর পর গাড়ির দরজায় দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে নেতা–কর্মীদের শুভেচ্ছা জানান। এরপর তিনি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করেন।
এএডি/