বাবা-ভাইয়ের পর জাতীয় দলে রাকিন

মামুন হোসেন

খেলা

বাংলাদেশের হকিতে বড় নাম রাসেল মাহমুদ জিমি। ঘরোয়া এবং আন্তর্জাতিক দুই অঙ্গনেই সুনাম-সম্মান রয়েছে এ তারকা ফরোয়ার্ডের। ২০২৩ সালে জাতীয়

2026-03-29T05:53:56+00:00
2026-03-29T05:53:56+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
খেলা
বাবা-ভাইয়ের পর জাতীয় দলে রাকিন
মামুন হোসেন
প্রকাশ: রোববার, ২৯ মার্চ, ২০২৬, ৫:৫৩ এএম 
হকি দলের দলের অন্যতম সদস্য ডিফেন্ডার রাকিন। ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশের হকিতে বড় নাম রাসেল মাহমুদ জিমি। ঘরোয়া এবং আন্তর্জাতিক দুই অঙ্গনেই সুনাম-সম্মান রয়েছে এ তারকা ফরোয়ার্ডের। ২০২৩ সালে জাতীয় দলের জার্সিতে সবশেষ খেলেছেন। এরপর ফর্ম-ফিটনেস থাকার পরও জাতীয় দলে ডাক পড়েনি। বয়সের প্যারামিটারে বেঁধে অনেকটা জোর করেই জিমিকে জাতীয় দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে বিস্তর আলোচনা-সমালোচনা হলেও হকি ফেডারেশন তাতে ভ্রুক্ষেপ করেনি। নিজের বাদ পড়া নিয়ে ক্ষোভ কিংবা খেদ নেই জিমির। 

৩৮ বছর বয়সি জিমি জানেন কীভাবে ফিরতে হয়, টাইগার পুত্র বলে কথা। জিমির বাবা আব্দুর রাজ্জাক সোনা মিয়া। যিনি হকিতে টাইগার উপাধিপ্রাপ্ত। ২০১৮ সালে অসুস্থতাজনিত কারণে পৃথিবীর মায়া ছাড়েন তিনি। তবে দুই ছেলেকে রেখে যান প্রিয় হকি অঙ্গনে। জিমি এবং খালেদ মাহমুদ রাকিন। দুই দশকেরও বেশি সময় জাতীয় দলে নিজের উপযোগিতার জানান দিয়েছেন জিমি। এবার বাবা ও বড় ভাইয়ের পদাঙ্ক অনুসরণ করে জাতীয় দলে যুক্ত হয়েছেন টাইগার সোনা মিয়ার ছোট ছেলে রাকিন। আগামী মাসে থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হবে এশিয়ান গেমস হকির বাছাইপর্ব। আসর সামনে রেখে গেল ২৬ মার্চ ১৮ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন। সেই দলের অন্যতম সদস্য ডিফেন্ডার রাকিন।

পুরান ঢাকার সন্তান আব্দুর রাজ্জাক সোনা মিয়া আরমানিটোলা স্কুল ও পরে জগন্নাথ কলেজে পড়াশোনা করেছেন। স্কুলে থাকতেই হকিতে হাতেখড়ি। ১৯৬৩ সালে আজাদ স্পোর্টিং দিয়ে শুরু ক্যারিয়ার। এরপর কম্বাইন্ড, ভিক্টোরিয়া ও আবাহনীতে খেলে অবসর নেন ১৯৮৮ সালে। ঢাকা জেলা ক্রীড়া সংস্থা সহ অন্য দলেও খেলেছেন। পূর্ব পাকিস্তানের হয়েও যশ-খ্যাতি লাভ করেছেন। সেন্ট্রাল ফরোয়ার্ড হিসেবে দুর্দান্ত খেলার কারণে তখন টাইগার উপাধি দেওয়া হয় সোনা মিয়াকে। ১৯৭০ সালে পাকিস্তান জাতীয় হকি দল এশিয়া কাপ খেলতে ঢাকায় আসে। 

পূর্ব পাকিস্তানের জার্সিতে সেবার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেন সোনা মিয়া। এ কারণে তাকে বাংলার টাইগার উপাধি দিয়ে যায় প্রতিপক্ষ পশ্চিম পাকিস্তান। দেশ স্বাধীনের পর ক্লাব হকিতে আলো ছড়ালেও জাতীয় দলের জার্সিতে সেভাবে আর সুযোগ মেলেনি। তবে জাতীয় দল যখন দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে খেলেছে (লাল-সবুজ), সেখানে একাধিবার খেলেছেন সোনা মিয়া। ১৯৮৮ সালে খেলোয়াড়ী জীবন শেষ করে কোচিংয়ে নাম লেখান। সোনা মিয়ার হাত ধরেই এবং জাতীয় দলের কোচ থাকাকালীন ২০০৩ সালে জিমির লাল-সবুজ জার্সিতে অভিষেক হয়। জিমির ২৩ বছর পর তারই আপন ছোট ভাই রাকিনের গায়ে উঠতে যাচ্ছে গর্বের লাল-সবুজ জার্সি।

বাবার খেলা দেখার সৌভাগ্য হয়নি জিমির। তবে ভাসাভাসাভাবে কিছু মনে পড়ে। তবে সোনা মিয়ার ইচ্ছা ছিল তার দুই ছেলে লাল-সবুজ জার্সিতে এক সঙ্গে মাঠে খেলুক। বেশ কয়েকবার সম্ভাবনা জেগেও ছিল। বাবা বেঁচে থাকা অবস্থায় জিমির ছোট ভাই রাকিন জাতীয় দলের প্রাথমিক ক্যাম্পে ডাকও পেয়েছিলেন। তবে চূড়ান্ত দলে সুযোগ মেলেনি। তবে সোনা মিয়া তার ছোট ছেলের অনেক খেলাই জীবিত অবস্থায় দেখে গেছেন। রাকিনকে বয়সভিত্তিক জাতীয় দলে, জুনিয়র অলিম্পিক দলে এমনকি ক্লাব হকিতেও খেলতে দেখে গেছেন। 

ছোট ভাই জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ায় দারুণ খুশি জিমি। সময়ের আলোকে জিমি বলেন, আমি যখন জাতীয় দলে প্রথম সুযোগ পাই, তখন বাবা ছিলেন কোচ। সবাই তখন সমালোচনা করে বলেছিল বাবার কারণে দলে সুযোগ পেয়েছি। সেই অপবাদ ঘুচতে সময় লাগেনি। ২৩ বছর টানা জাতীয় দলে খেলে ৬টা এশিয়া কাপ, ৪টা এশিয়ান গেমসসহ আর টুর্নামেন্টে খেলে প্রমাণ করেছি, বাবার সহযোগিতায় নয় নিজ যোগ্যতায় জিমি জাতীয় দলে অংশ হয়েছে। ঠিক একইভাবে আমার ছোট ভাই রাকিনও তার যোগ্যতায় এবার জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েছে। সে ক্যাম্পে দারুণ পারফরম্যান্স করেছে। অনুশীলন ক্যাম্পে খারাপ করলেও তা তাকে রাখা হতো না। আমি চাই আমার মতো আমার ভাইও দীর্ঘদিন লাল-সবুজ জার্সিতে খেলুক। আর উন্নতি করুক।’

জিমির সুরেই যেন সুর মেলালেন জাতীয় দলের নির্বাচক কমিটির সদস্য এক সময়কার তারকা খেলোয়াড় শহিদুল্লাহ দোলন। তিনি বলেন, ‘রাকিন এবার দারুণ খেলছে। তাই তাকে চূড়ান্ত দলে রাখা হয়েছে। আশা করছি সে থাইল্যান্ড অনুষ্ঠিত আসন্ন এশিয়ান গেমস হকি বাছাইপর্বেও ভালো খেলবে।’ জাতীয় দলে সুযোগ পেয়ে আনন্দিত রাকিন। বাবা-ভাইয়ের মান রাখাই এখন তার সামনে চ্যালেঞ্জ।


  বিষয়:   হকি  রাকিন 


Loading...
Loading...
খেলা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: