চলতি বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো প্রবর্তিত ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ বা প্রতি অর্ধে বাধ্যতামূলক তিন মিনিটের পানি পানের বিরতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এই নিয়মের কারণে ফুটবলের ঐতিহ্যবাহী গতি ও সৌন্দর্য ব্যাহত হচ্ছে বলে জোরালো সমালোচনা উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে চলমান বিশ্বকাপ শেষেই এই নিয়মটি পুনর্বিবেচনা বা বাতিল করা হতে পারে বলে আভাস দিয়েছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।
আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনাল ম্যাচের আগের দিন নিউ ইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান ফিফার গ্লোবাল ফুটবল ডেভেলপমেন্ট প্রধান আর্সেন ভেঙ্গার। সাবেক এই আর্সেনাল কিংবদন্তি স্বীকার করেন, বাধ্যতামূলক এই বিরতি নিয়ে দর্শকদের মাঝে যথেষ্ট নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ভেঙ্গার বলেন, এই ৩ মিনিটের বিরতি খেলোয়াড়দের সামর্থ্য বা খেলার ধার বাড়িয়েছে— এমন কোনো প্রমাণ আমাদের হাতে নেই। দর্শকরাও এটি পছন্দ করছেন না। আমরা মূলত দর্শকদের ফুটবলীয় আনন্দ দিতেই কাজ করি। তাই টুর্নামেন্ট শেষেই এর সার্বিক প্রভাব মূল্যায়ন করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাব আমরা।
অবশ্য ফিফার প্রবর্তিত অন্য একটি নিয়ম বেশ প্রশংসিত হয়েছে। মাঠে চিকিৎসকের সাহায্য নেওয়া খেলোয়াড়কে বাধ্যতামূলকভাবে এক মিনিট মাঠের বাইরে রাখার নিয়ম করায় খেলোয়াড়দের চোটের ভান বা সময়ক্ষেপণের প্রবণতা অনেকাংশে কমে এসেছে বলে জানান তিনি।
তবে ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ নিয়ে ক্ষোভের পারদ ক্রমেই চড়ছে। ফুটবলপ্রেমীদের অভিযোগ, ফিফা মূলত ফুটবলকে আমেরিকান ঘরানার খেলাগুলোর মতো বাণিজ্যিক রূপ দিতে চাইছে, যাতে টেলিভিশন সম্প্রচারকারীরা খেলার মাঝে অতিরিক্ত বিজ্ঞাপন প্রচারের সুযোগ পায়। লস অ্যাঞ্জেলেসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ম্যাচ চলাকালীন স্টেডিয়ামের এক কর্মী তো বিরতির যন্ত্রণায় ফুটবল ম্যাচকে রসিকতা করে ‘কোয়ার্টার’ বলে সম্বোধন করেন।
তাছাড়া, ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের শীতল আবহাওয়ায় কিংবা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ইনডোর স্টেডিয়ামেও এই নিয়ম বাধ্যতামূলক করায় সমালোচনার ঝড় বইছে। কৌশলগত দিক থেকেও এটি বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, কোনো দল যখন দারুণ ছন্দে আক্রমণ চালায়, ঠিক তখনই এই বিরতি প্রতিপক্ষকে মানসিকভাবে গুছিয়ে নেওয়ার এবং ট্যাকটিক্যাল পরিবর্তনের অন্যায্য সুযোগ করে দিচ্ছে। চলমান বিশ্বকাপে দেখা গেছে, হাইড্রেশন ব্রেকের ঠিক পরপরই বেশ কয়েকটি দল গোল হজম করেছে।
সময়ের আলো/কহু