ফুটবল আর কুসংস্কার যেন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। ভাগ্যবান জার্সি, নির্দিষ্ট কোনো আসন কিংবা ম্যাচের আগের চেনা মেন্যু— খেলোয়াড় থেকে সমর্থক, সবার মাঝেই থাকে কোনো না কোনো টোটকা। তবে এবার স্প্যানিশ সমর্থকদের অতিরিক্ত উচ্ছ্বাস আর কুসংস্কারের পারদ আকাশ ছুঁয়েছে। রোববার (১৯ জুলাই) আর্জেন্টিনার বিপক্ষে হাইভোল্টেজ বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে স্পেনের ভক্তরা নিজেদের আবেগ ধরে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন, কিন্তু ইতিহাস ও কিছু অবিশ্বাস্য কাকতালীয় ঘটনা তাদের সেই চেষ্টাকে কঠিন করে তুলছে।
২০১০ সালের সেই ঐতিহাসিক বিশ্বজয়ের সোনালি স্মৃতির সাথে ২০২৬ বিশ্বকাপের হুবহু মিলে যাওয়া ৭টি অবিশ্বাস্য ঘটনা নিচে তুলে ধরা হলো, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে— ট্রফি এবার স্পেনের ঘরেই যাচ্ছে :
১. মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা : একই তারিখ, একই প্রতিপক্ষ
২০১০ সালের ১১ জুন দক্ষিণ আফ্রিকা ও মেক্সিকোর ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠেছিল বিশ্বকাপের। ঠিক ১৬ বছর পর, ২০২৬ সালের টুর্নামেন্টও শুরু হয়েছে সেই ১১ জুনেই। আর উদ্বোধনী ম্যাচের প্রতিপক্ষ? সেই মেক্সিকো আর দক্ষিণ আফ্রিকাই! এবার শুধু স্বাগতিক আর সফরকারী দলের অবস্থান বদলেছে, কিন্তু তারিখ আর প্রতিপক্ষ রয়ে গেছে একদম এক। স্পেন মাঠে নামার আগেই ইতিহাস যেন এক অদ্ভুত ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছিল।
২. লা রোহাদের প্রিয় 'গ্রুপ এইচ'
দক্ষিণ আফ্রিকায় স্পেনের একমাত্র বিশ্বকাপ জয়ের মিশন শুরু হয়েছিল 'গ্রুপ এইচ' থেকে। লুইস দে লা ফুয়েন্তের বর্তমান দলটির ভাগ্যও ২০২৬ সালের ড্রতে একই সমীকরণ এনে দিয়েছে। আবারও তারা গ্রুপ পর্বে লড়াই করেছে 'এইচ' গ্রুপ থেকেই।
৩. মহাদেশীয় সেরার মুকুট মাথায় নিয়ে বিশ্বমঞ্চে
২০১০ সালে বিশ্বজয়ের আগে স্পেন জিতেছিল ইউরো ২০০৮। এবারও লুইসের দল উত্তর আমেরিকার মাটিতে পা রেখেছে বর্তমান ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে (ইউরো ২০২৪ জয়ী)। একই চক্রে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ এবং বিশ্বকাপ— ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম কঠিন এই কীর্তি পুনরাবৃত্তির একদম দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে স্পেন।
৪. রিয়াল মাদ্রিদে মরিনহো ম্যাজিক
২০১০ সালে স্পেনের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের ঠিক আগেই রিয়াল মাদ্রিদের কোচের ডাগআউটে বসেছিলেন হোসে মরিনহো। অবিশ্বাস্যভাবে, ক্লাবটির আরেকটি হতাশাজনক অধ্যায়ের পর এই বিশ্বকাপ বছরেই সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে প্রত্যাবর্তন ঘটেছে এই 'স্পেশাল ওয়ান'-এর। মাঠের খেলার সাথে এর সম্পর্ক না থাকলেও, সমর্থকদের জন্য এটি বড় এক 'লাকি চার্ম'।
৫. শেষ ষোলোতে পর্তুগাল বধ ও সেই ১-০
২০১০ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে পর্তুগালকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল স্পেন, সেবার জয়সূচক গোলটি করেছিলেন দাভিদ ভিয়া। ২০২৬ সালেও ঠিক একই মঞ্চে, অর্থাৎ শেষ ষোলোতেই স্পেনের সামনে পড়ে তাদের আইবেরীয় প্রতিবেশী পর্তুগাল। আর ম্যাচের ফলাফল? সেই একই— ১-০ ব্যবধানের জয়।
৬. বার্সেলোনা-কেন্দ্রিক সেই চেনা কাঠামো
২০১০ সালের বিশ্বজয়ী স্কোয়াডে বার্সেলোনার আটজন খেলোয়াড় ছিলেন (যার মধ্যে টুর্নামেন্টের আগেই চুক্তি পাকা হওয়া দাভিদ ভিয়াও ছিলেন)। ২০২৬ সালের স্প্যানিশ স্কোয়াডেও বার্সার খেলোয়াড় ঠিক আটজনই। জোয়ান গার্সিয়া, এরিক গার্সিয়া, পাও কুবার্সি, গাভি, পেদ্রি, দানি অলমো, ফেরান তোরেস এবং লামিনে ইয়ামাল— বার্সেলোনার এই শক্তিশালী কাঠামোর ওপর ভর করেই এবারও ফাইনালে উঠেছে স্পেন।
৭. শাকিরার উপস্থিতি ও চেনা সুর
স্পেনের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সাফল্যের সাথে জড়িয়ে আছে শাকিরার 'ওয়াকা ওয়াকা' গানটি। ২০১০ সালের সেই সাউন্ডট্র্যাকের পর এবারও বিশ্বকাপের বিনোদন মঞ্চ মাতাতে ফিরে এসেছেন শাকিরা। এবার হয়তো তার গানের সুরে বাজছে 'দাই দাই', কিন্তু শাকিরার উপস্থিতি স্প্যানিশদের মনে এনে দিয়েছে ২০১০ সালের সেই চেনা সুবাস।
সময়ের আলো/আআ