জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্যদের (এমপি) দেওয়া নোটিশের ভাষা ও বয়ান নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সংসদের কার্যপ্রণালিবিধি অনুযায়ী, জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে সংসদ সচিবালয়ের সচিব বরাবর নোটিশ পাঠাতে হয়। কিন্তু ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম ও দ্বিতীয় অধিবেশনে দেখা গেছে, বিরোধীদলীয় নেতাসহ প্রায় সব এমপিই নোটিশের শেষে নিজের নামের ওপরে সচিবকে সম্বোধন করে লিখছেন ‘আপনার আস্থাভাজন’।
প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মচারীর কাছে জনগণের ভোটে নির্বাচিত আইনপ্রণেতারা কেন নিজেকে ‘আস্থাভাজন’ হিসেবে প্রকাশ করবেন— তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খোদ এমপি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। গত ১৫ জুলাই শেষ হওয়া বাজেট অধিবেশনেও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ একাধিক এমপির নোটিশে এই শব্দের ব্যবহার দেখা গেছে।
সরকারদলীয় হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, ‘সংবিধানে এর কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। এটি স্রেফ একটি ঔপনিবেশিক রেওয়াজ। সংসদ সচিবালয়ের সরবরাহ করা ফরম্যাটের কারণে এটি দীর্ঘদিন ধরে চলছে। একজন এমপির জন্য এটি লেখা নিষ্প্রয়োজন।’
এই প্রথার সংস্কার চান নতুন প্রজন্মের রাজনীতিবিদরা। নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা আবদুল হান্নান মাসউদ জানান, নোটিশের শব্দচয়ন ও ফরম্যাট পরিবর্তনসহ পিএস-এপিএস নিয়োগের মতো প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার নিয়ে সংসদে নোটিশ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। এ বিষয়ে স্পিকারের সঙ্গেও তাদের প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে।
সময়ের আলো/কহু