দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে নতুন উচ্চতায় নিতে দীর্ঘমেয়াদি এক মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। পরিকল্পনার কেন্দ্রে রয়েছে তিনটি বড় অবকাঠামো প্রকল্প- যেগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের সড়ক যোগাযোগ, পণ্য পরিবহন এবং আঞ্চলিক সংযোগে আমূল পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, পদ্মা সেতুর আদলে আরও একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা পাটুরিয়া ও দৌলতদিয়াকে যুক্ত করবে। প্রায় ৪.৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রস্তাবিত সেতুটি রাজধানীর সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সরাসরি যোগাযোগ আরও সহজ করবে। এর ফলে বেনাপোল স্থলবন্দর ও মোংলা সমুদ্রবন্দরের সঙ্গে পরিবহন ব্যবস্থায় সময় ও খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে রাজধানীর সংযোগ আরও গতিশীল করতে বিদ্যমান যমুনা সেতুর পাশাপাশি আরেকটি বিকল্প সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। বর্তমানে সেতুর দুই প্রান্তে সড়ক ছয় লেনে উন্নীত হলেও মূল সেতুটি চার লেনের হওয়ায় যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এই সীমাবদ্ধতা কাটাতেই নতুন সেতুর সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। সম্ভাব্য রুট হিসেবে বগুড়া-জামালপুর বা গাইবান্ধা-দেওয়ানগঞ্জ করিডোর বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুন
অন্যদিকে দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত করিডোরগুলোর একটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কমাতে নির্মাণ করা হবে একটি আধুনিক এক্সপ্রেসওয়ে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পণ্য পরিবহন দ্রুততর হবে এবং আমদানি-রপ্তানির গতি বাড়বে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এটি মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি বৃহৎ আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক তৈরি করবে।
এই তিনটি প্রকল্পই সরকারের বৃহৎ উন্নয়ন কৌশলের অংশ, যা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির সঙ্গেও সম্পর্কিত। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে প্রাথমিক আলোচনা ও ব্যয় প্রাক্কলনের কাজ শুরু হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে ধাপে ধাপে সম্ভাব্যতা যাচাই, নকশা প্রণয়ন এবং অর্থায়ন নিশ্চিত করা হবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী এক দশকের মধ্যে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় দৃশ্যমান বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
এএডি/