ভূমধ্যসাগরে মানবপাচারের ভয়াবহ এক ঘটনায় প্রাণহানির পর বেঁচে থাকা বাংলাদেশিদের উদ্ধারে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে সরকার। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, জীবিতদের সুরক্ষা নিশ্চিত করে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এখন সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
রোববার (২৯ মার্চ) গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, লিবিয়া থেকে ইতালিগামী বিপজ্জনক সমুদ্রপথে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, যাত্রীদের কয়েকদিন পর্যাপ্ত খাবার না দিয়ে অমানবিক অবস্থায় রাখা হয় এবং মৃত্যুর পর মরদেহ সাগরে ফেলে দেওয়ার মতো নিষ্ঠুরতার ঘটনাও ঘটেছে।
সরকারের ধারণা, আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের সক্রিয় যোগসাজশেই এই ট্র্যাজেডি ঘটেছে। এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান প্রতিমন্ত্রী।
বর্তমানে জীবিত উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের কেউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, আবার কেউ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। সংশ্লিষ্ট দেশে থাকা বাংলাদেশ মিশন তাদের পরিচয় শনাক্তকরণ ও অবস্থা পর্যবেক্ষণে কাজ করছে বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বিদেশে এ ধরনের সংকটময় পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট দেশের আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। তাই দেশে ফিরিয়ে আনার আগে প্রত্যেকের পরিচয় নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা জরুরি।
তিনি জানান, গ্রিস সরকারের সহযোগিতায় উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে ধাপে ধাপে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন রোধে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগও জোরদার করা হচ্ছে।
এএডি/