রাজধানীতে পৃথক স্থানে দুই কলেজ ছাত্রীর অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। এরা হলেন- রামপুরা বনশ্রী এলাকার লাইকা মিলিন (১৮), ও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার অনিপা নিন্দিয়া (২৫)।
রোববার (২৯ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রামপুরা বনশ্রীর ৭নম্বর রোডের বাসার চতুর্থ তলায় জানালার গ্রিলের সাথে ওরনা পেঁচিয়ে গলায় ফাঁসি দেয় লাইকা মিলিন (১৮) নামে ওই কলেজ ছাত্রী। দেখতে পেয়ে স্বজনরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক বেলা ১১টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালে লাইকা মিলিনের বাবা শাহাদাত হোসেন জানান, লাইকা মিলিন বনশ্রী আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের একাদশ প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিল। আজ সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঘরের দরজা বন্ধ করে জানালার গ্রিলের সাথে গলায় ফাঁসি দেয়। দেখতে পেয়ে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে আসলে চিকিৎসক মৃত বলে জানান।
তবে কি কারণে গলায় ফাঁসি আত্মহত্যা করেছে লাইকা মিলিন সে বিষয়ে কিছু বলতে পারে নাই স্বজনরা। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি রামপুরা থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন
এদিকে মৃত অনিপা নিন্দিয়ার ভাই আকিল ভূঁইয়া জানান, তাদের বাড়ি চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর থানার এখলাসপুর গ্রামে। বাবা আশফা ভুঁইয়া মালয়েশিয়া প্রবাসী। বর্তমানে নারায়ণগঞ্জে থাকেন। অনিপা লালমাটিয়া মহিলা কলেজের অনার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিল। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে অনিপা সবার বড় ছিল। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ১০নম্বর রোডে একটি বাসায় চারজন একটি ভাড়া নিয়ে থাকতো।
তিনি আরও জানান, শনিবার সন্ধ্যার দিকে পুলিশের মাধ্যমে অনিপার মৃত্যুর সংবাদ পাই। এরপর ওই বাসায় গিয়ে অনিপার মরদেহ পাই। ঈদের ছুটি শেষ করে গত রোববার ঢাকায় আসে। গত দুইদিন আগে ফোন দিয়ে অসুস্থের কথা বলেছিল। তবে কি কারণে তার মৃত্যু হয়েছে সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলতে পারে নাই।
এদিকে ভাটারা থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) রাহাতুল ইসলাম সৈকত সুরতহাল রিপোর্টে উল্লেখ করেন, প্রাথমিক তদন্তে জানান গেছে ওই শিক্ষার্থী নেশাগ্রস্থ ছিল। সে এ্যালকোহল পান করতো। তার রুমের মধ্যে এ্যালকোহলের খালি বোতল পাওয়া গেছে। ধারনা করা হচ্ছে এ্যালকোহল বিষক্রিয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
এএডি/