বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় ১৩০ কোটি টন খাবার অপচয় হয়। আর বাংলাদেশে এই পরিমাণ ছরে ১ কোটি ৪০ লাখ টন। জাতিসংঘের খাদ্য সংস্থার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
সারাবিশ্বে প্রতিবছর ক্ষুধায় ৩০ লাখের বেশি শিশুর মৃত্যু হচ্ছে, অন্যদিকে উৎপাদিত খাদ্যের এক-তৃতীয়াংশই হচ্ছে অপচয়। সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটর বলছে, এই ভয়াবহ বৈষম্য দূর করতে ৩০ মার্চ ‘আন্তর্জাতিক শূন্য বর্জ্য দিবস’ উপলক্ষে বিশ্বজুড়ে খাদ্যের অপচয় রোধে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে জাতিসংঘ।
‘গ্লোবাল রিপোর্ট অন ফুড ক্রাইসিস’ ২০২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের ৫৩টি দেশে প্রায় ২৯ কোটি ৫০ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য সংকটে ভুগছে। এর মধ্যে প্রায় ১৪ লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষের চরম সীমায় রয়েছে। তালিকায় সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থায় রয়েছে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা, যেখানে ৬ লাখ ৪০ হাজারের বেশি মানুষ দুর্ভিক্ষের শিকার।
একইভাবে, দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা সুদানে এই সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ ৩৭ হাজার। এ ছাড়া দক্ষিণ সুদান, ইয়েমেন, হাইতি এবং মালিও চরম খাদ্য ঝুঁকিতে রয়েছে।
আদাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, শিশুদের অবস্থা আরও সংকটাপন্ন। তথ্যমতে, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুর প্রায় ৪৫ শতাংশেরই মূল কারণ অপুষ্টি ও ক্ষুধা। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৪ কোটি ৩০ লাখ শিশু তীব্র ক্ষুধার্ত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।
প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, খাদ্য অপচয়ের দৌড়ে এগিয়ে আছে বিশ্বের জনবহুল ও উন্নত দেশগুলো। ২০২৪ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চীন বছরে ১০ কোটি ৮০ লাখ টনের বেশি খাবার অপচয় করে। মাথাপিছু অপচয় ৭৬ কেজি। ভারতের বার্ষিক অপচয় ৭ কোটি ৮০ লাখ টন (মাথাপিছু ৫৪ কেজি)। পাকিস্তানে বছরে ৩ কোটি ১০ লাখ টন খাবার নষ্ট হয়। এখানে মাথাপিছু অপচয়ের পরিমাণ ১২২ কেজি, যা ভারত ও চীনের সম্মিলিত অপচয়ের সমান।
দেখা যায়, আমেরিকা বছরে ২ কোটি ৪০ লাখ টন খাবার অপচয় হয় (মাথাপিছু ৭১ কেজি)। অতিরিক্ত ভোগের সংস্কৃতিই এর মূল কারণ বলে উঠে এসেছে।
তবে তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান উদ্বেগজনক। বাংলাদেশে প্রতি বছর ১ কোটি ৪০ লাখ টনের বেশি খাবার অপচয় হয়। এ দেশে মাথাপিছু খাদ্য অপচয়ের পরিমাণ বছরে প্রায় ৮২ কেজি। দেশে মূলত সনাতন কৃষি পদ্ধতি, কোল্ড স্টোরেজের অভাব এবং পরিবহণ ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে বাজারজাত করার আগেই প্রচুর খাদ্য নষ্ট হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাইজেরিয়া, ব্রাজিল ও মিশরের মতো দেশগুলোতে অবকাঠামোগত দুর্বলতা, অনুন্নত সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং পরিবহণ সংকটের কারণে ফসল সংগ্রহের পর তা গ্রাহকের কাছে পৌঁছানোর আগেই পচে যায়।
অন্যদিকে, ইন্দোনেশিয়া ও মেক্সিকোর মতো দেশে অতিরিক্ত কেনাকাটা এবং গৃহস্থালি অভ্যাসের কারণে প্রচুর ভোজ্য খাবার ডাস্টবিনে যায়।
জাতিসংঘের পক্ষ থেকে এই সংকট মোকাবেলায় সরকার, ব্যবসায়ী সম্প্রদায় এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এক্ষেত্রে যদি অপচয় হওয়া খাবারের অন্তত একটি অংশ সাশ্রয় করা যেত, তবে বিশ্বের কোনো শিশুকে আর ক্ষুধার্ত অবস্থায় প্রাণ হারাতে হতো না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
/ইউএমএইচ