বাংলাদেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে কাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে নতুন একাধিক উদ্যোগে। খেলোয়াড়দের আর্থিক নিরাপত্তা, প্রতিভা বিকাশ এবং অবকাঠামো উন্নয়ন- এই তিনটি স্তম্ভকে সামনে রেখে সরকার ক্রীড়াবিদদের জন্য বেতনভিত্তিক ভাতা ও ‘ক্রীড়া কার্ড’ চালু করেছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
নতুন ব্যবস্থার আওতায় জাতীয় ক্রীড়াবিদদের মাসিক ভাতা দেওয়া হবে, যা তাদের পেশাগত স্থিতিশীলতা বাড়াবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সাফল্য পাওয়া ১২৯ জন ক্রীড়াবিদকে মোট ২ কোটি ৪৪ লাখ টাকার আর্থিক পুরস্কার প্রদান করা হয়।
ব্যক্তিগত ও দলগত- দুই ক্ষেত্রেই পদকভেদে পুরস্কারের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে পারফরম্যান্সভিত্তিক স্বীকৃতি নিশ্চিত হয়। ক্রীড়াবিদদের জন্য চালু হওয়া ‘ক্রীড়া কার্ড’কে একটি কেন্দ্রীয় পরিচয়পত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে খেলোয়াড়দের তথ্যভিত্তিক ডাটাবেজ তৈরি হবে, যা ভবিষ্যতে প্রশিক্ষণ, ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আরও পড়ুন
সরকারের পরিকল্পনায় শুধু ভাতা নয়, রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি ক্রীড়া উন্নয়ন কৌশলও। এর মধ্যে রয়েছে- সারাদেশে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিভা খোঁজা, প্রতিটি জেলায় আন্তর্জাতিক মানের স্পোর্টস ভিলেজ গড়ে তোলা, ইউনিয়ন পর্যায়ে খেলার মাঠ নিশ্চিত করা, জাতীয় শিক্ষাক্রমে প্রাথমিক স্তর থেকেই খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ, আঞ্চলিক প্রশিক্ষণে জোর।
ঢাকা-কেন্দ্রিক চাপ কমাতে বিভাগীয় শহরগুলোতে বিকেএসপির শাখাগুলোকে পূর্ণাঙ্গ প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি উপজেলা ভিত্তিক ক্রীড়া কর্মকর্তা ও প্রশিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ চলছে।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ক্রীড়াবিদদেরও ভাতা ও সম্মাননার আওতায় আনার বিষয়টি এই উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। এতে ক্রীড়াক্ষেত্রে অংশগ্রহণ আরও বিস্তৃত হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করবে। দীর্ঘমেয়াদে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘ক্রীড়া শিল্প’ গড়ে তোলার দিকেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
এএডি/