সত্যবাদিতা একটি মহৎ গুণ। এ গুণ অর্জন সবার পক্ষে সম্ভব হয় না। আবার গুণটি হাট-বাজারে কিনতেও পাওয়া যায় না। এটি পেতে হলে সাধনা করতে হয়। সব অন্যায়-অবিচারকে বর্জন করতে হয়। সত্য সবসময় স্থায়ী আর মিথ্যা ক্ষণস্থায়ী। মিথ্যা কখনো সত্যকে পরাজিত করতে পারে না। সত্য একটি অপরাজেয় শক্তি। সত্য মানবজাতির বিজয় আনে। সত্য গুণটি যে অর্জন করতে পেরেছে সেই সত্যবাদী। সত্যবাদী সবার প্রিয় হয়। মানবসমাজের নেতৃত্বের দায়িত্বে সত্যবাদীরাই এগিয়ে আসে। তাদের নেতৃত্ব রাষ্ট্র ও সমাজে সফলতা বয়ে আনে। সমাজ থেকে অসমাজিকতা, অন্যায়-অবিচার, অপসংস্কৃতি ও অসভ্যতা বন্ধে সৎ ও সত্যবাদী মানুষের বিকল্প নেই।
হাদিসের ভাষ্য থেকে জানতে পারি, সত্যবাদীরা সর্বদা সত্যের ওপর অবিচল থাকবে। পৃথিবী অদূর ভবিষ্যতে মিথ্যা জগতে রূপ নেবে। কথায় কথায় মানুষ পারস্পরিক মিথ্যা বলবে আর মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেবে। মিথ্যা বলাটা দুষ্ট লোকের স্বভাবজাত হিসেবে পরিণত হবে। বর্তমানের এর কিছু নমুনা প্রকাশ হতে চলছে। যেমন প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা, আমানতের খেয়ানত করা, হিংসা-বিদ্বেষ, মুনাফেকি, পরনিন্দা ইত্যাদি। কিন্তু ওই মিথ্যা সমাজেও কিছু সত্যবাদী মানুষ সত্যের পক্ষে কাজ করে যাবে।
মিথ্যার বিরুদ্ধে লড়াই করে যাবে। তারা মানবসমাজ থেকে মিথ্যাকে দূরীভূত করবে আর সত্যের আলো ছড়িয়ে যাবে। সত্যবাদী মানুষগুলো আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর প্রদত্ত বিধান মতে জীবনযাপন করবে। তারা কেয়ামত পর্যন্ত সত্যের ওপর অবিচল থাকবে। তাদের পৃথিবীর কোনো অপশক্তি সত্যপথ থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না। এ প্রসঙ্গে রাসুল (সা.) বলেন, ‘আমার উম্মতের এক দল লোক সর্বদা আল্লাহর হুকুমের ওপর অটল থাকবে। যারা তাদের লাঞ্ছিত করতে চাইবে এবং যারা তাদের বিরোধিতা করবে, তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। এমনকি কেয়ামত পর্যন্ত তারা আল্লাহর হুকুমের ওপর বিদ্যমান থাকবে।’ (বুখারি : ৩৬৮৪)
আরও পড়ুন
মিথ্যার বিরুদ্ধে সত্যের লড়াই কেয়ামত অবধি চলবে। শুধু কথাবার্তায় সত্য-মিথ্যা সীমাবদ্ধ নয়, বরং কাজে-কর্মেও সত্য-মিথ্যা বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে। যেমন চুরি-ডাকাতি, জিনা-ব্যভিচার, শিরক, বেদাত ইত্যাদি। এসব শরিয়ত গর্হিত কাজ মিথ্যার পর্যায়ে। এ অন্যায় কাজে যারা জড়িত থাকবে তাদের অবশ্যই সৎ পথে ফিরিয়ে আনতে হবে। আর মানুষকে অসভ্য সমাজ থেকে সভ্য সমাজের দিকে ধাবিত করা সৎ ও সত্যবাদী লোকের দায়িত্ব। যেমন যুগে যুগে নবী-রাসুলগণ স্বীয় উম্মতকে সৎ ও সত্যপথের দিকে আহ্বান করেছেন। অধুনা পৃথিবীর মানবসমাজেও অসভ্যতার সয়লাব চলছে। এর থেকে মুসলিম উম্মাহকে রক্ষার জন্য একটি সত্যবাদী দল কেয়ামত পর্যন্ত যুদ্ধ করে যাবে। তারা সৎ কাজের আদেশ দেবেন এবং অসৎ কাজ থেকে বারণ করবেন। এভাবে দ্বীনকে আল্লাহ তায়ালা হেফাজত করবেন। কস্মিনকালেও কোনো শয়তানি শক্তি সত্যবাদিতা ও সৎ কাজের আদেশকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। হাদিসে আছে, হজরত আবদুর রহমান বিন আলা হাজরিমি থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘শিগগিরই আখেরি জমানার উম্মতের মধ্যে এমন এক জাতির আবির্ভাব হবে, যাদের পূর্ববর্তী লোকদের সমপরিমাণ সওয়াব মিলবে। তাদের বৈশিষ্ট্য হবে তারা সৎ কাজের আদেশ করবে এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করবে। আর ফিতনাবাজদের সঙ্গে লড়াই করবে তারা’ (বাইহাকি)। বিজয় সত্যবাদীদেরই হবে। পরকালের চূড়ান্ত বিজয় সত্যবাদীদেরই পদচুম্বন করবে।
এএডি/