স্বপ্ন ছিল এশীয় ফুটবলের পরাশক্তিদের চোখে চোখ রেখে লড়াই করার। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মাঠের লড়াইয়েও কোনো কার্পণ্য করেননি লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপের অভিষেকেই স্বাগতিক থাইল্যান্ডের বিপক্ষে দাপুটে ফুটবল খেলেছে বাংলাদেশ। কিন্তু শেষ মুহূর্তের কিছু অহেতুক ভুল আর পেনাল্টি ভাগ্যের বিড়ম্বনায় জয় হাতের মুঠো থেকে ফসকে যায়। সাগরিকার জোড়া গোলে জয়ের সুবাস পেলেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানের হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে কোচ পিটার জেমস বাটলারের শিষ্যদের।
ম্যাচ শুরুর আগে কোচ বাটলার লড়াকু ফুটবলের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তার প্রতিফলন দেখা যায় থাম্মাসাত স্টেডিয়ামের ঘাসে। ২০০৪ সালের সেমিফাইনালিস্ট থাইল্যান্ডের বিপক্ষে শুরু থেকেই সাহসী আক্রমণ চালায় বাংলাদেশ। ম্যাচের ৩৫ মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। মাঝমাঠ থেকে আসা লং পাস ধরে একক প্রচেষ্টায় থাই রক্ষণভাগকে চুরমার করে বল জালে জড়ান স্ট্রাইকার সাগরিকা। তার ওই দর্শনীয় গোলে লিড নিয়ে প্রথমার্ধ শেষ করে বাংলাদেশ।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুটাও ছিল বাংলাদেশের জন্য স্বপ্নের মতো। ৫০ মিনিটে উমহেলা মারমার নিখুঁত থ্রু বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গোলরক্ষকের দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে বল জালে পাঠিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন সাগরিকা। ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে তখন অঘটনের স্বপ্ন দেখছিল বাংলাদেশ। গোলপোস্টের নিচেও অতন্দ্র প্রহরী হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন মিলি আক্তার। থাই ফরোয়ার্ডদের একের পর এক জোরালো শট দারুণ ক্ষিপ্রতায় রুখে দিয়ে বাংলাদেশকে জয়ের পথে টিকিয়ে রেখেছিলেন তিনি।
কিন্তু ৬৮ মিনিটে খেলার চিত্রপট হঠাৎ বদলে যায়। বক্সের ভেতর অপ্রয়োজনীয় ফাউল করে থাইল্যান্ডকে প্রথম পেনাল্টি উপহার দেন সুরভি আক্তার আফরিন। কুরিসারার নিখুঁত স্পট কিক মিলি আটকাতে পারেননি। সেই ধাক্কা সামলে উঠার আগেই ৭৪ মিনিটে আবারও অহেতুক ট্যাকলে দ্বিতীয় পেনাল্টি পায় স্বাগতিকরা। এবার মনডংয়ের জোরালো শট মিলির গ্লাভস ছুঁয়ে জালে জড়ালে সমতায় ফেরে থাইল্যান্ড।
বিপর্যয়ের এখানেই শেষ নয়। পেনাল্টি গোলের ঠিক পরে ৭৯ মিনিটেই মাঝমাঠে বল হারিয়ে থাই আক্রমণ সামলাতে ব্যর্থ হয় রক্ষণভাগ। দুই ডিফেন্ডারের ফাঁক গলে বেরিয়ে গোল করেন পিচায়াতিদা মানোয়াং। মাত্র দশ মিনিটের ব্যবধানে তিন গোল হজম করে জয়ের উল্লাস মুহূর্তেই রূপ নেয় হারের শঙ্কায়। শেষ পর্যন্ত আপ্রাণ চেষ্টা করেও আর সমতায় ফিরতে পারেননি আফঈদা-অর্পিতারা।
দুর্দান্ত খেলেও হার দিয়ে আসর শুরু করা বাংলাদেশের সামনে এখন ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ। গ্রুপপর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে ৪ এপ্রিল শক্তিশালী চীনের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। চীন ভিয়েতনামকে ৩-০ গোলে হারিয়ে তাদের শক্তিমত্তার প্রমাণ দিয়ে রেখেছে। সেই কঠিন পরীক্ষা পার হতে হলে রক্ষণভাগের ভুলগুলো শুধরে নিয়ে আবারও লড়াকু ফুটবল উপহার দিতে হবে লাল-সবুজের প্রমিলা বাহিনীকে।