বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সজিব খান হত্যাচেষ্টা মামলায় শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের মেয়ে খাদিজা ইয়াসমিন বিথীকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এর আগে গত ১৭ মার্চ বিথীকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার এসআই হাসানুজ্জামান। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির এদিন ধার্য করেন। এদিন শুনানিকালে তাকে আদালতে হাজির করা হয়।
গ্রেফতার দেখানোর আবেদনে বলা হয়, তদন্তে সন্দিগ্ধ হাজতি আসামি খাদিজা ইয়াসমিন বিথি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত আছে মর্মে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তাকে একাধিকবার ভাটারা থানা এলাকার আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের সাথে উসকানিমূলক কথাবার্তা বলতে দেখা যায় মর্মে যথেষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। আসামি এ মামলার ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত আছে মর্মে তদন্তে প্রতীয়মান হচ্ছে। এমতাবস্থায় তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন। আসামি জামিনে মুক্তি পেলে পলাতক হয়ে মামলার তদন্তে ব্যাঘাত ঘটানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন চলাকালীন ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ভাটারার নতুন বাজার ব্রিজের নিচে মো. সজিব খান আন্দোলনে অংশ নেন। এসময় ১৫০/২০০ জন আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী লাঠি, লোহার রড, হকিস্টিক এবং আগ্নেয়াস্ত্রসহ আন্দোলনকারীদের উপর বেপরোয়া গুলিবর্ষণ, ককটেল, হাতবোমা ও পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ করে। এতে অনেকে নিহতসহ আহত হয়।
আসামিরা হত্যার উদ্দেশ্যে সজিবসহ মিছিলে অংশগ্রহণকারী সব ছাত্র জনতার উপর গুলিবর্ষণ, হাত বোমা, পেট্রোল বোমা ও ককটেল নিক্ষেপ করলে অনেক ছাত্র জনতা গুলিবিদ্ধ হয় এবং আহত হয়। এসময় তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আসামিরা এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়লে তার বাম হাতে ও শরীরে বিভিন্ন জায়গায় গুলি লাগে। এ ঘটনায় গত বছরের ১৪ মার্চ সজিব খান বাদী হয়ে ভাটারা থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে মামলা করেন।
গত ১৫ ডিসেম্বর কুমিল্লা জেলা কারাগারের সামনে থেকে বিথীকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন তাকে যুবদল নেতা আরিফ হত্যার ঘটনায় রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় করা মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।
এফআর