এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের মঞ্চে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের মেয়েদের লড়াইটা ছিল অনেকটা গল্পের মতো, যেখানে শুরুটা ছিল বীরত্বের আর শেষটা একরাশ বিষাদের। স্বপ্নের মতো এক অভিষেক রাঙিয়ে ফরোয়ার্ড সাগরিকা যখন জোড়া গোল করে দলকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে নিলেন, তখন মনে হচ্ছিল জয়টা কেবল সময়ের ব্যাপার।
কিন্তু ফুটবলের অনিশ্চয়তা আর মাঠের ছোট ছোট কিছু ভুল শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের মুঠো থেকে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে, ৩-২ গোলের ব্যবধানে পরাজয় মেনে নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। এই হারে দলের অন্দরে কিছুটা হতাশার ছায়া থাকলেও, ভেঙে না পড়ে নতুন উদ্যমে ঘুরে দাঁড়ানোর তীব্র প্রত্যয় ঝরছে কোচ আর খেলোয়াড়দের কণ্ঠে।
মাঠের লড়াইয়ে ৭০ মিনিট পর্যন্ত আধিপত্য ধরে রেখেছিল বাংলাদেশ, কিন্তু শেষ মুহূর্তের অসতর্কতায় সব ওলটপালট হয়ে যায়। বড় মঞ্চে ফুটবলাররা ভুল করবে। তবে সেই চাপটা যেন দলের মধ্যে না থাকে সেদিকেই নজর টিম ম্যানেজমেন্টের।
সহকারী কোচ আবুল হোসেন বলেন, ‘মেয়েরা ভুল করলে তাদের একটু মন খারাপ হবে স্বাভাবিক। তাদের আবার নতুন করে শুরু করতে হবে। সেটাই আমরা তাদের বুঝিয়েছি। আমরা বুঝিয়েছি যে লাস্ট ম্যাচ যা হয়েছে, যে ভুলগুলো হয়েছে সেগুলো নিয়ে চিন্তা না করতে। ওখান থেকে আমরা কী শিক্ষা নিয়ে চায়নার সঙ্গে কী করব সেটা নিয়ে চিন্তা করা উচিত। ভুল যেন না হয় আমরা এভাবেই সামনে এগুচ্ছি এবং প্লেয়াররাও মোটিভেট সেভাবেই হচ্ছে।’
অন্যদিকে নিজের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স সত্ত্বেও দলের হার মেনে নিতে পারছেন না ম্যাচজুড়ে দ্যুতি ছড়ানো সাগরিকা। তিনি অকপটে স্বীকার করেন, ‘আসলে বলব না যে থাইল্যান্ড খারাপ দল। থাইল্যান্ড অনেক ভালো দল।
আমরাও ভালো করছি ফার্স্ট হাফে। তো সেকেন্ড হাফে আমরা ধরে রাখতে পারিনি তাই আমরা হেরে গেছি। সেকেন্ড হাফে গিয়ে যখন দুই একটা গোল খেয়ে ফেলি, তখন সবার মন-মানসিকতা একটু ডাউন হয়ে গিয়েছিল। সেখান থেকেই এমন হয়েছে। আসলে সেখান থেকে আমরা চেষ্টা করছিলাম কামব্যাক করার, কিন্তু আমরা পারিনি, হেরে গেছি।’
আগামী ৪ এপ্রিল চীনের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়ানোর কঠিন চ্যালেঞ্জ নিতে মুখিয়ে আছে অনূর্ধ্ব-২০ দলের মেয়েরা। সাগরিকার কণ্ঠেও ফুটে উঠেছে সেই আত্মবিশ্বাস, ‘পরের ম্যাচের জন্য অবশ্যই প্রস্তুত আছি। ইনশাআল্লাহ, ভালো কিছু করে মাঠ থেকে ফিরব।’ হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে আর টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে চীনের বিপক্ষে এই ম্যাচটিই এখন বাংলাদেশের সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর সবচেয়ে বড় সুযোগ।
সময়ের আলো/কেএইচও