বিশ্বকাপ ফাইনালকে ঘিরে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যে জোর গুঞ্জন ছিল, কাতার বিশ্বকাপজয়ী দলের অন্যতম নায়ক আনহেল ডি মারিয়া যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচটি মাঠে বসে দেখবেন। এমনকি সম্ভাব্য ট্রফি প্রদান অনুষ্ঠানেও তার উপস্থিতি নিয়ে আলোচনা চলছিল। তবে সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে নিজেই জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি ফাইনাল দেখতে মাঠে যাচ্ছেন না।
এর পেছনে ফুটবলীয় কোনো কারণ নয়, বরং নিজের ব্যক্তিগত কুসংস্কারকেই দায়ী করেছেন আর্জেন্টাইন এই কিংবদন্তি। তার বিশ্বাস, মাঠে উপস্থিত থাকলে দলের জন্য তিনি ‘অপয়া’ হতে পারেন।
সম্প্রতি আর্জেন্টিনার অভিনেতা নিকো ভাসকেজ অভিনীত নাটক রকি দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ডি মারিয়া। সেখানে তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন কি না।
প্রশ্ন শুনেই হেসে ওঠেন ২০২২ বিশ্বকাপ ফাইনালের নায়ক। এরপর বলেন, ‘না! তুমি কি পাগল নাকি?’ পরে নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি যাইনি, এবারও যাচ্ছি না। আমি অপয়া (জিঙ্কস) হতে চাই না। আমি বাড়িতেই থাকব এবং সেখান থেকেই ম্যাচ দেখব।’
মাঠে উপস্থিত না থাকলেও মন-প্রাণ দিয়ে দলের সঙ্গেই আছেন বলে জানান ডি মারিয়া। তিনি বলেন, ‘ছেলেরা জানে, প্রথম দিন থেকেই আমি তাদের সমর্থন করে আসছি। এবারও সবসময়কার মতো দূর থেকেই তাদের সমর্থন করব।’
আর্জেন্টিনার বর্তমান দল নিয়ে নিজের সন্তুষ্টির কথাও জানান এই উইঙ্গার। আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিয়ে নতুন প্রজন্মের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল বলেই মনে করেন তিনি।
ডি মারিয়া বলেন, ‘আমি খুবই খুশি। আমি মনে করি, সরে দাঁড়িয়ে তরুণদের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি ঠিক ছিল। ছেলেরা আবারও বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠেছে। গতকালের পারফরম্যান্সের পর তাদের কাছে এর চেয়ে বেশি কিছু চাওয়ার নেই।’
ডি মারিয়া যুক্তরাষ্ট্রে না যাওয়ায় সম্ভাব্য ট্রফি উপস্থাপন অনুষ্ঠানে আর্জেন্টিনার প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন দেশটির দুই সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন মারিও আলবার্তো কেম্পেস অথবা অস্কার রুগেরি। কেম্পেস ১৯৭৮ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের এবং রুগেরি ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন।
বিশ্বকাপ ফাইনালের সবচেয়ে বড় মঞ্চে উপস্থিত না থাকলেও আর্জেন্টিনার কোটি সমর্থকের মতোই নিজের বাড়ি থেকেই লিওনেল মেসি, লিওনেল স্কালোনি ও পুরো দলের সাফল্য কামনা করবেন ‘এল ফিদেও’ খ্যাত আনহেল ডি মারিয়া।
সময়ের আলো/কেএইচও