আর মাত্র একটি ম্যাচ। তারপরই জানা যাবে কে হবে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের নতুন রাজা। আগামী ১৯ জুলাই মধ্যরাতে (বাংলাদেশ) নিউইয়র্কের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে বর্তমান ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন এবং বর্তমান বিশ্ব ও কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ট্রফি ঘিরে এই মহারণের অপেক্ষায় এখন পুরো বিশ্ব।
তবে ফাইনালের আগেই এই স্টেডিয়াম হয়ে উঠেছে বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত মঞ্চ। গ্রুপ পর্ব থেকে নকআউট পর্যন্ত একের পর এক রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ, তারকাদের ঝলক, ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন এবং বড় বড় অঘটনের সাক্ষী থেকেছে নিউ জার্সি স্টেডিয়াম। এবার সেই মাঠেই নির্ধারিত হবে ২০২৬ বিশ্বকাপের ভাগ্য।
ব্রাজিলকে রুখে মরক্কোর বার্তা : ১৩ জুন গ্রুপ পর্বে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত ম্যাচগুলোর একটি ছিল ব্রাজিল ও মরক্কোর লড়াই। কাতার বিশ্বকাপে প্রথম আফ্রিকান দল হিসেবে সেমিফাইনাল খেলা মরক্কো এবারও নিজেদের শক্তির প্রমাণ দেয়। প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে দারুণ এক লুপ শটে মরক্কোকে এগিয়ে দেন ইসমাইল সাবাইরি।
তবে বিরতির আগে দুর্দান্ত ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে সমতা ফেরান ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের ড্রয়ে শেষ হয় ম্যাচটি।
এমবাপের জোড়া গোলে সেনেগালকে হারায় ফ্রান্স : ১৬ জুন একই মাঠে সেনেগালের বিপক্ষে মাঠে নামে ফ্রান্স। ২০০২ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ফ্রান্সকে হারিয়ে ইতিহাস গড়া সেনেগাল এবার সেই কীর্তির পুনরাবৃত্তি করতে পারেনি। কিলিয়ান এমবাপে জোড়া গোল করে ফ্রান্সকে ৩-১ ব্যবধানে জয় এনে দেন। একই সঙ্গে তিনি হয়ে যান ফ্রান্সের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ব্র্যাডলি বারকোলাও একটি গোল করেন। সেনেগালের হয়ে ইব্রাহিম এমবায়ে একটি গোল শোধ দিলেও তা পরাজয় এড়ানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না।
হালান্ডের জোড়া গোলে নরওয়ের জয় : ২২ জুন সেনেগাল আবারও দারুণ লড়াই করেও খালি হাতে ফেরে। নরওয়ের বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানে হেরে যায় আফ্রিকার দলটি। আর্লিং হালান্ড দ্বিতীয়বারের মতো টুর্নামেন্টে জোড়া গোল করেন। মার্কাস হোমগ্রেন পেডারসেনও একটি গোল যোগ করেন। সেনেগালের হয়ে ইসমাইলা সার দুটি গোল করলেও জয় পায় নরওয়ে।
ইকুয়েডরের ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন : ২৫ জুন গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জার্মানির মুখোমুখি হয় ইকুয়েডর। প্রথম দুই ম্যাচে মাত্র এক পয়েন্ট পাওয়া এবং কোনো গোল না করা দলটির সামনে ছিল বাঁচা-মরার লড়াই। ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই লেরয় সানে জার্মানিকে এগিয়ে দেন। কিন্তু খুব দ্রুতই সমতা ফেরান নিলসন অ্যাঙ্গুলো। পরে গঞ্জালো প্লাতা কাছ থেকে গোল করে ২-১ ব্যবধানে ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেন। সেই জয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে সেবাস্তিয়ান বেকাচেচের দল।
বেলিংহামের জাদুতে ইংল্যান্ড : ২৭ জুন পানামার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে কিছুটা ধীরগতির ফুটবল খেলেছিল ইংল্যান্ড। তবে আবারও পার্থক্য গড়ে দেন জুড বেলিংহাম। একটি গোল করার পাশাপাশি হ্যারি কেইনকে দিয়ে আরেকটি গোল করান তিনি। ২-০ ব্যবধানে জিতে ইংল্যান্ড গ্রুপ পর্ব শেষ করে। সেই ম্যাচেই কেইন বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন।
সুইডেনকে উড়িয়ে এমবাপের আরেক কীর্তি : ৩০ জুন শেষ ৩২-এর ম্যাচে আবারও নিউইয়র্ক নিউ জার্সিতে নামে ফ্রান্স। প্রতিপক্ষ সুইডেনকে ৩-০ গোলে হারায় দিদিয়ের দেশমের দল। এমবাপে দুটি গোল করেন, বারকোলা করেন একটি। বিশ্বকাপে নিজের মোট গোলসংখ্যা ১৮-তে নিয়ে উঠে আসেন সর্বকালের গোলদাতাদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে।
ব্রাজিলকে বিদায় করে নরওয়ের ইতিহাস : ৫ জুলাই এই মাঠেই ঘটে টুর্নামেন্টের অন্যতম বড় অঘটন। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে নরওয়ে। আর্লিং হালান্ড একটি হেড ও একটি দুর্দান্ত শটে জোড়া গোল করেন। সেই দুই গোলে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে কিলিয়ান এমবাপে ও লিওনেল মেসির সমান সাত গোল স্পর্শ করেন তিনি। ইনজুরি সময়ে নেইমারের পেনাল্টি গোল শুধু ব্যবধান কমায়।
এবার ফাইনালের মঞ্চ : সব নাটকীয়তা, সব স্মরণীয় মুহূর্তের পর এবার নিউইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়াম প্রস্তুত সবচেয়ে বড় লড়াইয়ের জন্য। বর্তমান ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ও দক্ষিণ আমেরিকার সেরা দল আর্জেন্টিনার। লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল কি ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি জিতবে? নাকি লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা ব্রাজিলের ১৯৬২ সালের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুই বিশ্বকাপ জয়ের অনন্য কীর্তি গড়বে? উত্তর মিলবে আগামীকাল নিউইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে, যেখানে লেখা হবে বিশ্ব ফুটবলের নতুন ইতিহাস।
সময়ের আলো/এসএকে