বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, আমাদের অত্যাচার-নির্যাতনের ভয় দেখাবেন না। সবগুলো পার করে আমরা এসেছি। সময় থাকতে গণভোটের ফলাফল মেনে নিন।
শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকারি দলের অবস্থানের প্রতিবাদে এবং অবিলম্বে গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের বিক্ষোভপূর্ব সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, ২৪ এর জুলাই বিপ্লব একটি দলকে ক্ষমতাচ্যুত করে আর একটি দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য ছিল না। জুলাই বিপ্লব ছিল একদল ব্যক্তির হাতে ক্ষমতা না দিয়ে জনগণের ক্ষমতা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য। আজকে গণভোটকে অস্বীকার করা মানে ৬৯ ভাগ মানুষের রায়কে অস্বীকার করা নয়, আবার তারা আওয়ামী লীগের মতো এক ব্যক্তির কাছে সব ক্ষমতা দিতে চায়। আমরা দীর্ঘ ১৬ বছর এক ব্যক্তির ক্ষমতার শাসন দেখেছি। জামায়াতের ১১জন ব্যক্তিকে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আবু সাঈদ রক্ত দিয়েছে। আজ বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর রক্তের কথা ভুলে গেছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের এই আন্দোলন কোনো দলের বিরুদ্ধে নয়। আমাদের আন্দোলন জনগণের বিপক্ষে যারা অবস্থান নিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। আমরা সবসময় জনগণের পক্ষে থাকি। আজ একজন ব্যক্তির কাছে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার মাধ্যমে যদি স্বপ্ন দেখেন আবার জোর করে ক্ষমতায় থাকতে পারবেন, তাহলে বোকার স্বর্গে বাস করছেন।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, কেয়ারটেকার সরকারের আন্দোলনের কথা মনে করেন। কেয়ারটেকার নাকি পাগল-ছাগল ছাড়া কেউ বোঝে না। আপনারা অস্বীকার করলেন। আন্দোলন দমানোর চেষ্টা করলেন। শেষ পর্যন্ত পারলেন। কিন্তু এমনভাবে পারলেন আপনারা ক্ষমতায় আসতে পারলেন না।
তিনি বলেন, জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবেন না। আমাদের রাজপথে আসতে বাধ্য করবেন না। রাজপথের আন্দোলনের ফলাফল সরকারি দলের পক্ষে যায়নি, কোনো সময় যাবে না। আমাদের অত্যাচার নির্যাতন ভয় দেখাবেন না। সবগুলো পার করে আমরা এসেছি। সময় থাকতে গণভোটের ফলাফল মেনে নিন। জনগণ আপনাদের ভালোবাসবে, শ্রদ্ধা করবে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা আরিফুল ইসলাম ও জামায়াত নেতা ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপির পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন- খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের, এনসিপির সদস্য সচিব আকতার হোসেন এমপি, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির সভাপতি অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল হক চাঁন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহসভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. ওমর ফারুক, জামায়াত নেতা হামিদুর রহমান আযাদসহ ১১ দলের শীর্ষ নেতারা।
এফআর